একসময় সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক সম্পদের গুরুত্বপূর্ণ আধার ছিল ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার শালবন। প্রায় ১৮ দশমিক ৩৫ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই বনাঞ্চলে একসময় কয়েক হাজার শালগাছ ছিল। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম উৎস হিসেবে পরিচিত এই শালবনে এখন টিকে আছে মাত্র দুই থেকে তিন শতাধিক গাছ। নতুন করে পর্যাপ্ত চারা রোপণ না হওয়ায় বনটি ধীরে ধীরে উজাড় হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
সম্প্রতি শালবন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক গাছের চারপাশের বাকল কেটে ফেলা হয়েছে। এতে গাছগুলো ধীরে ধীরে শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে মৃত গাছের ডালপালা কেটে নেওয়ার চিহ্নও পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বনাঞ্চলের মাটি কেটে বিক্রি ও অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গাছের চারপাশের ছাল তুলে দিলে গাছটি ধীরে ধীরে মারা যায়। পরে সহজেই সেই গাছের কাঠ ও ডাল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন কর্মকাণ্ড চললেও তা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অতীতে রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা বনাঞ্চলে প্রবেশ করে গাছের ক্ষতি করত। বর্তমানে এ ধরনের ঘটনা কিছুটা কমলেও ভয়ের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, কয়েক দশক আগেও শালবনটি ছিল অনেক বেশি ঘন। বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, ছোট প্রাণী ও বনজ উদ্ভিদের সমৃদ্ধ উপস্থিতি ছিল সেখানে। কিন্তু বনভূমির পরিধি কমার সঙ্গে সঙ্গে জীববৈচিত্র্যও কমেছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত বৃক্ষরোপণ ও সংরক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ না করলে বনটির অস্তিত্ব আরও সংকটে পড়বে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বন রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়মিত তদারকি ও নজরদারির অভাবেই দুর্বৃত্তরা সুযোগ পাচ্ছে। পর্যাপ্ত নজরদারি থাকলে এভাবে গাছের ক্ষতি করা সম্ভব হতো না বলে মনে করেন তারা।
পরিবেশ সচেতন নাগরিকেরা বলছেন, শালবন শুধু গাছের সমষ্টি নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত সম্পদ। বন ধ্বংস হলে স্থানীয় জলবায়ু, মাটির উর্বরতা এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
এ বিষয়ে জুলফিকার আলী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘শালবাগানে নতুন করে চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কাজ কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ হয়নি। বিষয়টি বাজেট বরাদ্দের ওপর নির্ভর করছে।’
স্থানীয়দের দাবি, বন রক্ষায় কার্যকর নজরদারি জোরদার করা এবং দ্রুত ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা না হলে একসময় এলাকার এই ঐতিহ্যবাহী শালবন পুরোপুরি বিলীন হয়ে যেতে পারে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন