ধান কাটার ‘কামলা’ বলে আখ্যা দেওয়ায় জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় শ্যামল চন্দ্র মালী (৫০) নামে এক মৎস্যজীবিকে গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত হাসান আলীকে (৩৫) আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার কাশিড়া গ্রামের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্যামল চন্দ্র মালী কাশিড়া শীলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় মৎস্যজীবি এবং দিনমজুর ছিলেন। তার পরিবারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। আটক হাসান আলী উপজেলার ঢেকুঞ্চা বাউস্ত গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি ভবঘুরে প্রকৃতির।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৪টার দিকে শ্যামল চন্দ্র মালী কাশিড়া বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পথে কাশিড়ার শ্যামল ঘোষের বাড়ির সামনে সড়কে হাসান আলী সঙ্গে তার দেখা হয়। এ সময় শ্যামল গ্রামের হাসানকে ‘কামলা’ সম্বোধন করে তার সঙ্গে গ্রামের পলির জমির ধান কাটার কথা বলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে শ্যামল হাটের দিকে রওনা দিলে কিছুক্ষণ পর হাসান একটি গাছের ডাল দিয়ে তার মাথার পেছনে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি সড়কে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিহতের ভাতিজা সুশান্ত চন্দ্র মালী প্রায় এক কিলোমিটার ধাওয়া করে হাসান আলীকে আটক করেন। পরে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, নিহতের মরদেহ জরুরি বিভাগে রাখা আছে। সেখানে স্ত্রী দীপালী মালীসহ স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। দীপালী মালী বলেন, ‘আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই। আমার ছেলে-মেয়েরা আজ এতিম হয়ে গেল।’
নিহতের ছোট ভাই পরিমল চন্দ্র মালী বলেন, কথাকাটাকাটির পর দাদা হাটে যাচ্ছিলেন। তখন হাসান পেছন থেকে গাছের ডাল দিয়ে মাথায় আঘাত করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাতিজা সুশান্ত চন্দ্র মালী বলেন, ‘কাকার মাথায় আঘাত করে হাসান পালিয়ে যাচ্ছিল। আমি ধাওয়া করে আধা কিলোমিটার পরে তাকে আটক করি। পরে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।
হাসপাতালে পুলিশের হেফাজতে থাকা হাসান আলী বলেন, আমাকে ধান কাটতে বলেছিল। এ কারণে আমি গাছের ডাল দিয়ে শ্যামলের মাথায় আঘাত করেছি। পরে লোকজন আমাকে ধরে মারধর করেছে।
আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহজাবিন বলেন, শ্যামল চন্দ্র মালীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল আরিফ হোসেন বলেন, হাসান আলীকে কামলা বলায় মাথায় আঘাত করে শ্যামল চন্দ্র মালী নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত হাসান আলীকে আটক করা হয়। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন