× UCB Sticker Card
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বেনাপোল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ১২:০২ পিএম

৫০ বছরেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া

শার্শার রুদ্রপুরে কাঁচা রাস্তার জন্য ‘গৃহবন্দি’ শতাধিক পরিবার

বেনাপোল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ১২:০২ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

স্বাধীনতার পর কেটে গেছে দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময়। দেশের আনাচে-কানাচে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া, দৃশ্যমান হয়েছে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প। তবে এর ঠিক উল্টো চিত্র যশোরের শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রাম। এখানকার ‘খালধার পাড়া’ এলাকার মাত্র এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা সংস্কারের অভাবে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন শতাধিক পরিবারের মানুষ। দীর্ঘ এই সময়ে এক কোদাল মাটিও না পড়ায় রাস্তাটি এখন নর্দমায় পরিণত হয়েছে। ফলে কার্যত জনবিচ্ছিন্ন ও ‘গৃহবন্দি’ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুদ্রপুর গাঙ ধার পাড়ার গোলাম হোসেনের বাড়ির সামনে থেকে শুরু করে খালধার পাড়ার মুকুল হাজির বাড়ি পর্যন্ত এই এক কিলোমিটার রাস্তাটিই ওই এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু বছরের পর বছর কোনো সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই এটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ইরি-বোরো মৌসুম চললেও রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে কৃষকরা মাঠের ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছেন না। মাথায় করে বা বিকল্প উপায়ে ধান আনতে গিয়ে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে তাদের।

স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজের হাতে গোনা কিছু শিক্ষার্থী কাদাপানি ঠেলে স্কুলে গেলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থী বর্ষা মৌসুমে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে অকালে ঝড়ে পড়ছে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী। এই রাস্তায় চলতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় আশপাশের গ্রামের মানুষকে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী, বৃদ্ধ, শিশুরা প্রতিদিন যাতায়াত করে এই কাঁদাময়, পিচ্ছিল পথে। বর্ষাকালে হাঁটাও দায় হয়ে পড়ে, কোথাও কোথাও হাঁটুসমান কাদা জমে যায়।

রুদ্রপুর মাদিনাতুল ফোরকানিয়া কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মারিয়া বলেন, ‘আমি প্রতিদিন এই  রাস্তা দিয়ে হেঁটে মাদ্রাসায় যাই, পা ফেললেই কাদায় আটকে যায় জুতা। অনেক সময় জামা-কাপড় ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। আমরা অনেক কষ্ট করছি। সরকারের কাছে আবেদন, যেন এই রাস্তা পাকা করে আমাদের কষ্টের শেষ করে’।

বিআরডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু জাফর বলেন, ভাঙা ও কাদা রাস্তার কারণে প্রতিদিন ক্লাসে যেতে আমাদের ভীষণ কষ্ট হয়। এতে পড়ালেখায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

রুদ্রপুর বিআরডি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমান বলেন, ‘বর্ষা আসলেই আমাদের দুঃখের শেষ নেই, স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা রাস্তা পার হয়ে স্কুলে আসতে চায় না। এই রাস্তা দিয়ে গর্ভবতী নারী বা অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে চরম বিপদে পড়তে হয়। ভ্যানে উঠানো যায় না, অ্যাম্বুলেন্স তো ঢুকতেই পারে না। আমাদের যেন কেউ দেখার নেই। সরকার আসে-যায় কিন্তু আমাদের কষ্ট থেকে যায় সেই আগের মতোই।’

রুদ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, ছাত্রছাত্রীদের প্রতিদিন কাঁদা রাস্তা দিয়ে যাতায়াতে অনেক কষ্ট হয়। অনেকে সময়মতো ক্লাসে পৌঁছাতে পারে না।

ভোগান্তির চিত্র শুধু কৃষিতেই সীমাবদ্ধ নয়, এলাকার সামাজিক ও চিকিৎসা ব্যবস্থাও এই এক রাস্তার কারণে ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে জানান, কোনো মানুষ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত ডাক্তারখানায় বা হাসপাতালে নেওয়ার কোনো উপায় থাকে না। এমনকি যাতায়াত ব্যবস্থার এই করুণ দশার কারণে এই পাড়ার বিবাহযোগ্য মেয়েদের বিয়ে দিতেও চরম বেগ পেতে হচ্ছে অভিভাবকদের। ভাঙা কাদা রাস্তার অজুহাতে অনেকেই এই গ্রামে আত্মীয়তা করতে চান না।

ভুক্তভোগী শতাধিক পরিবারের কষ্ট লাঘব করতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে অতি দ্রুত রাস্তাটিতে মাটি ভরাটসহ পাকাকরণের জন্য বর্তমান সরকার প্রধান ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অবহেলিত রুদ্রপুর খালধার পাড়ার বাসিন্দারা।

এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা প্রকৌশলী সানাউল হক বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ শার্শার রুদ্রপুরে এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার কাজের টেন্ডার হয়েছে। বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন। বরাদ্দ এলেই রাস্তার নির্মাণকাজ দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!