× UCB Sticker Card
সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম

দখল-দূষণে পিরোজপুর পৌরসভার ৪২ খাল, দুর্ভোগে নাকাল পৌরবাসী 

পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

দখল, ভরাট ও দূষণের কবলে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে পিরোজপুর পৌরসভার ৪২টি খাল। এক সময় নৌযান চলাচলের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এসব খালের অধিকাংশই এখন দখলদারদের কব্জায়। অন্যদিকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার ড্রেন ময়লা-আবর্জনায় ভরে গিয়ে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ফলে মশার উপদ্রব, দুর্গন্ধ এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীকে।

পৌরসভার ২ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শিকারপুর ও ঝাটকাঠী ভারানী খালের বর্তমান চিত্র দেখলে যে কারো মনে হতে পারে এগুলো যেন ময়লার ভাগাড়। অথচ এক সময় এসব খাল দিয়ে বড় বড় নৌকা চলাচল করত। বছরের পর বছর দখল ও দূষণের কারণে ঐতিহ্যবাহী জলপথগুলো এখন মৃতপ্রায়। 

১৮৮৫ সালে ইউনিয়ন থেকে পৌরসভায় উন্নীত হওয়া পিরোজপুর দেশের প্রাচীন পৌরসভাগুলোর অন্যতম। প্রায় ৩০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভায় রয়েছে ৪২টি খাল, যার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৭ কিলোমিটার। তবে পরিকল্পিত নগরায়ণের অভাব এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে মূল শহরের অধিকাংশ খাল দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে খালগুলো দ্রুত ভরাট হয়ে পড়ছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া নগরবাসীর একাংশ ড্রেনগুলোকে ময়লা ফেলার স্থানে পরিণত করায় ড্রেনেজ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। ফলে খাল ও ড্রেনগুলো এখন দুর্গন্ধ, মশা এবং রোগজীবাণুর আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। 

শহরের কুমারখালী এলাকার বাসিন্দা সেলিম তালুকদার বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ ও ১৯৮১ সালে পিরোজপুরের বিভিন্ন এলাকায় খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। তখন আমি ছোট ছিলাম, সেই সময় এই খালে নেমে গোসল করতাম, এই খালের পানি মানুষ কৃষি ও পরিবারের কাজে ব্যবহার করত।, বড় বড় নৌকা এবং ট্রলার আসত। এখন ছোট নৌকাও ঢুকতে পারে না এই খালে। খালগুলো পুনরুদ্ধার ও পুনঃখননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

ফিরোজ তালুকদার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, এই খালের পানি কৃষি জমিতে ব্যবহার করত কিন্তু এখন খালটি ছোট হয়ে যাওয়ায় পানি পাওয়া যাচ্ছে না। তা ছাড়া আমরা আগে পরিবারের কাজে এই খালের পানি ব্যবহার করতাম। এখন পানি পাওয়া যাচ্ছে না। খুব সমস্যায় আছি আমরা। খালগুলো দখলমুক্ত ও পুনঃখনন করা না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। একই সঙ্গে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং খাল-ড্রেনে বর্জ্য ফেলা বন্ধে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে কর্তৃপক্ষের।

শহরের কালিকাঠীর বাসিন্দা রেহেনা বেগম নামে এক নারী বলেন, আমরা পৌরসভার পানিও ঠিকভাবে পাই না এবং খালে তো পানি আসেই না। এই খাল আগে অনেক বড় ছিল। এখন তো ছোট হয়ে গেছে। মাঝে মধ্যে একটু পানি আসে তা ব্যবহার অনুপযোগী। খালে অনেক ময়লা-আবর্জনায় ভরে যাওয়ায় দুর্গন্ধ আসে। কালিকাঠির এই খালটি খনন করলে আমরা এই খালের পানি ব্যবহার করতে পারব।

এ বিষয়ে পিরোজপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ধ্রুব লাল দত্ত বণিক বলেন, দখলকৃত খাল পুনরুদ্ধার ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পৌরসভার ৬৭ কিলোমিটার খালের মধ্যে চলতি অর্থবছরে ৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

পিরোজপুর পৌরসভায় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। অথচ নগরীর প্রাণপ্রবাহ হিসেবে পরিচিত ৪২টি খালের অধিকাংশই ইতোমধ্যে দখল ও ভরাট হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে প্রাচীন এই পৌরসভার জলাধার ও প্রাকৃতিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!