× UCB Sticker Card
সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম

শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর হত্যা, আসামির মৃত্যুদণ্ড

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে উপজেলার বারোবাজারে  চাঞ্চল্যকর চার বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

সোমবার (২২ জুন) বেলা ১১.৫০ টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান জনাকীর্ণ আদালতে এই আলোচিত রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে আদালত আসামিকে ফাঁসির আদেশের পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার এই টাকা আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হত্যার পর লাশ গুম করার অপরাধে আসামিকে আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এদিকে ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর থেকে রায় ঘোষণা পর্যন্ত ১১৬ দিনের (৩ মাস ২৬ দিন) মধ্যে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও রায় ঘোষণা হলো, যা ঝিনাইদহের আদালতে এক অনন্য নজির। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু তাহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফারাসপুর গ্রামের শফি উদ্দীনের ছেলে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার ৪ বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুম মূলত মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে। তবে শিশুটির পরিবার দীর্ঘদিন ধরে কালীগঞ্জের বারবাজার এলাকার বাদেডিহি গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। তাবাচ্ছুমের পিতা নজরুল ইসলাম স্থানীয় একটি দর্জির দোকানের কর্মচারী এবং মাতা হালিমা খাতুন বেসরকারি সংস্থা ওয়েব ফাউন্ডেশন-এ কর্মরত আছেন।

আদালত ও মামলায় রায় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া আবু তাহের। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার করতে গেলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশে পাশের একটি বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়।

ঘটনার পরদিনই পুলিশ আসামি আবু তাহেরকে কুষ্টিয়া শহরে তার ভাইয়ের ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে এবং তদন্ত শেষে গত ২৬ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তাবাসসুম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন। গত ১৬ জুন মামলার চার্জ গঠন, ১৭ জুন সাক্ষ্য গ্রহন এবং ২১ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ সোমবার রায় ঘোষনার দিন ধার্য্য করে আদালত।

সরকার পক্ষে পিপি অ্যাড আকিদুল ইসলাম ও আসামি পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম মামলাটি পরিচালনা করেন। মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত এই সর্বোচ্চ সাজার রায় প্রদান করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সরকার পক্ষের আইনজীবী আকিদুল ইসলাম জানান, মাত্র ১১৬ দিনে এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে ঝিনাইদহের বিচারব্যবস্থায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো এবং সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হলো। অন্যদিকে, শিশু তাবাচ্ছুমের পিতা নজরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আসামি আবু তাহেরের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!