যশোরের চৌগাছা উপজেলার পুড়াপাড়া বাজার থেকে মাকাপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক এখন জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীরা। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অধিকাংশ যানবাহনই এই সড়কে চলাচল করতে চায় না।
সরেজমিনে দেখা যায়, চৌগাছা উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের পুড়াপাড়া বাজার থেকে মাকাপুর হয়ে ভল্লভপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে পুড়াপাড়া থেকে মাকাপুর পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার অংশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও গর্ত এতটাই গভীর যে সামান্য অসাবধানতাই বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। রাতের অন্ধকারে এসব গর্ত যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন তিলেপপুর, ইন্দ্রেরপুর, মাধবপুর, ভল্লভপুর, মাকাপুর, নওদাপাড়া, মাঠপাড়া, কাকুড়িয়া, কচুবিলা, চুটারহুদা, দাসপাড়াসহ আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান, পাট, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে আনেন এই পথেই। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষকেও প্রতিদিন এই ভাঙাচোরা সড়ক ব্যবহার করতে হয়।
মাকাপুর গ্রামের বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম বলেন, কোনো রোগী অসুস্থ হলে কিংবা গর্ভবতী মাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় যানবাহন পাওয়া। ভাঙা রাস্তার কারণে অনেক চালকই আসতে চান না। ফলে জরুরি মুহূর্তেও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
বেসরকারি চাকরিজীবী ইমন বলেন, সন্ধ্যার পর পুড়াপাড়া থেকে কোনো ভ্যান বা অন্য যানবাহন এই রাস্তায় আসতে চায় না। ১০ টাকার ভাড়া ২০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হয়। এটি এক ধরনের জিম্মি করে ভাড়া আদায়। কিন্তু আমাদের বিকল্প কোনো পথও নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল বলেন, এই সড়ক দিয়েই এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান, পাট, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য পুড়াপাড়া বাজারে নিয়ে যান। কিন্তু ভাঙা রাস্তার কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, সময় নষ্ট হচ্ছে এবং অনেক সময় কৃষিপণ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুধু কৃষকই নন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষকেও প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় প্রায়ই ভ্যান, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় অনেক চালক এই পথে চলাচল করতে চান না। ফলে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। শিক্ষার্থীদের সময়মতো স্কুল-কলেজে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে চৌগাছা উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আনারুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, বর্তমানে যশোর জেলায় এই সড়কটির জন্য কোনো চলমান প্রকল্প নেই। তবে চলতি অর্থবছরে সড়ক মেরামতের একটি প্রকল্প আসার কথা রয়েছে। ওই প্রকল্পের তালিকায় পুড়াপাড়া–মাকাপুর সড়কের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।
জনপ্রতিনিধিদের বরাদ্দ থেকে সড়কটি সংস্কারের সুযোগ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের বরাদ্দ মূলত নতুন উন্নয়নমূলক অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় করা হয়। ওই তহবিল থেকে মেরামতের কাজ তুলনামূলক কম হয়। তাই এই সড়ক সংস্কারে বিশেষ উদ্যোগ বা পৃথক প্রকল্পের প্রয়োজন হবে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দিন ফরিদ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিরা সুলতানা মুন্নীর সরাসরি হস্তক্ষেপে দ্রুত সড়কটির সংস্কার করা হোক।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন