দীর্ঘদিনের অবহেলা পেছনে ফেলে নতুন এক সম্ভাবনার পথে হাঁটছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, কারিগরি প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, বিদ্যুৎ ও রেল যোগাযোগ—একাধিক বড় প্রকল্প ও পরিকল্পনা ঘিরে বদলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে এ জনপদের মানুষ।
বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এমপির নেতৃত্ব ও প্রচেষ্টায় এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্যসেবায় ইতোমধ্যে বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি জেলার সরকারি মেডিকেল কলেজ শৈলকুপায় প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতেও রয়েছে বড় পরিকল্পনা। জাতীয় নার্সিং ইনস্টিটিউটের একটি শাখা স্থাপনের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। শেখপাড়ায় অবস্থিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সঙ্গে ‘ঝিনাইদহ’ পুনরায় যুক্ত করার বিষয়েও কার্যক্রম চলমান।
ক্রীড়াঙ্গনেও খুলতে পারে নতুন দুয়ার। মির্জাপুর ইউনিয়নে বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে সম্ভাব্য জায়গা পরিদর্শন ও প্রাক্কলনের কাজ এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি শৈলকুপায় একটি আধুনিক শিল্পকলা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে।
কৃষকের দিকেও বিশেষ নজর রাখছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। কৃষকের উৎপাদিত পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য দীর্ঘদিন সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ তৈরি করতে শৈলকুপায় আধুনিক মানের একটি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা চলমান। এটি বাস্তবায়িত হলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পাশাপাশি মৌসুমে উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণ করে সুবিধাজনক সময়ে বাজারজাত করার সুযোগ পাবেন।
তরুণদের কর্মসংস্থানে সবচেয়ে বড় সম্ভাবনার একটি হতে পারে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। এখানে কোরিয়ান ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও আসতে পারে প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তন। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি মডেল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে পরিবেশ সুরক্ষা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।
যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও মাগুরা অঞ্চলকে ঘিরে রেল সংযোগ স্থাপনের সম্ভাবনাও নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, “শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, দক্ষ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে যেসব উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে, তা শৈলকুপার জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে শৈলকুপা একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় উপজেলায় পরিণত হবে বলে আমরা আশাবাদী।
শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, একটি নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ গড়ার বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা এবং শৈলকুপাকে মাদকমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন। মাদক কারবারি ও এর নেপথ্যের শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
একসময় যে শৈলকুপার মানুষের বড় আক্ষেপ ছিল অবহেলা, সেই জনপদেই এখন একের পর এক বড় স্বপ্নের বীজ বোনা হচ্ছে। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে রূপ নিলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে বদলে যেতে পারে পুরো উপজেলার চিত্র।
এখন শৈলকুপার মানুষের অপেক্ষা—ঘোষণা ও পরিকল্পনার পথ পেরিয়ে এসব স্বপ্ন কবে দৃশ্যমান বাস্তবতায় রূপ নেয়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন