× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম

তিস্তার পানি কিছুটা কমলেও বন্যার আতঙ্ক কাটেনি

কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি সোমবার রাতভর পর্যায়ক্রমে ৩, ১০ ও ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে পানি প্রবাহ সামান্য কমে গিয়ে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে লালমনিরহাটের তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা নদীপাড়ের বাসিন্দাদের চরম উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে।

এর আগে গত মাসের শেষ দিকে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে একটি স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করেছিল, তবে এক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে পানি পুনরায় বাড়তে শুরু করে এবং সোমবার সন্ধ্যায় তা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বিপৎসীমা অতিক্রম করায় চলতি মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো বন্যার শঙ্কা প্রবল হয়েছে।

তিস্তার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। লালমনিরহাটের নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হওয়ায় চরাঞ্চলের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে নৌকা ও ভেলা। পানিবন্দি হয়ে পড়া মানুষ গৃহপালিত পশু, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একইসঙ্গে রয়েছে সাপ ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রব।

হাতীবান্ধার পারুলিয়া চরের বাসিন্দা কামরুজ্জামান বলেন, ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের বেশকিছু বাড়িতে পানি ঢুকেছে। পানির চাপ দেখে মনে হচ্ছে বড় বন্যা হতে পারে। বন্যার সময় চারদিকে শুধু পানি থাকায় আমাদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে।

পানির তীব্র চাপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদী তীরবর্তী উঁচু সড়কগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধগুলো সংস্কার না করায় সেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ মেরামতের কাজ না করে বর্ষা মৌসুমে জরুরি মেরামতের নামে সরকারি অর্থের অপচয় করে বলে অভিযোগ তাদের। শুষ্ক মৌসুমে কাজ করলে বাঁধ পাকাপোক্ত হতো এবং মানুষ নদীভাঙন ও বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেত বলে দাবি করেন তারা।

সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে তিস্তায় পানিপ্রবাহ বেড়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৬টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে!

পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকদিন ধরে তিস্তার পানি ওঠানামা করলেও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় নদীতে পানির চাপ বাড়ছে। এতে চরাঞ্চলের নিচু এলাকা, ফসলি জমি ও কাঁচা রাস্তায় পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধন এলাকার কুদ্দুস আলী বলেন, ব্যারাজে পানি বাড়লে তো আমাদের এখানে পানি বাড়বে। রাতের মধ্যেই আমাদের এখানে পানি আসবে। সেই চিন্তায় রাতের ঘুম হারাম।

একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানান হাতীবান্ধা গড্ডিমারী এলাকার জসীম উদ্দিনের। তিনি বলেন, সোমবার রাতে পানি বাড়তে শুরু করায় রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, মাঠ পর্যায়ে তাদের টিম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান বলেন, প্রথম দফার বন্যায় দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। এবারও জেলা প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!