× UCB Sticker Card
শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

দুই সপ্তাহে বিলীন ২৫ বাড়ি

তিস্তার পানি কমতেই রাজারহাটে তীব্র ভাঙন

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে তিস্তা নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন। নদীর স্রোত আর ভাঙনের তাণ্ডবে গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ এলাকায় অন্তত ২৫টি পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভিটেমাটি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। কেবল বসতভিটাই নয়, ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে আছে স্থানীয় মণ্ডলপাড়া জামে মসজিদ এবং পূর্ব চর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

নদীর এই গ্রাস থেকে রেহাই পেতে নদীতীরবর্তী শত শত পরিবার এখন চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। প্রতিদিনই নদীর পাড় ভেঙে নতুন নতুন এলাকা পানির নিচে চলে যাচ্ছে।

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা আনছার আলী জানান, নদী এখন আমাদের নিত্যদিনের আতঙ্ক। চোখের সামনে নিজের সাজানো ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হতে দেখা ছাড়া আমাদের আর কিছু করার নেই। দ্রুত কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই মানচিত্র থেকে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দীর্ঘদিনের এই ভাঙন আতঙ্ক ও মানসিক চাপের কারণে সম্প্রতি ওই গ্রামের আব্দুল কাদের (৭০) ও আব্দুস সালাম (৬০) নামের দুই বৃদ্ধ মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মাইদুল ইসলাম।

অন্যদিকে, ভুক্তভোগী ছবুর আলী (৬৫) জানান, আমার ঘরবাড়ি গত কয়েক বছরে ১৭ বার নদীতে ভেঙেছে। প্রতি বছর নতুন করে ঘর বাঁধি, আর নদী তা কেড়ে নেয়। স্থায়ী সমাধান আজও আমাদের কপালে জোটেনি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তাইজুল ইসলাম জানান, ভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ইউএনও ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তাৎক্ষণিকভাবে শুকনো খাবার এবং ৭ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্তদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

চরবাসীদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলে ভাঙন রোধে কিছু অস্থায়ী জিওব্যাগ ফেলে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করা হয়, কিন্তু এতে ভাঙন থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব হয় না। চরাঞ্চলের হাজারো মানুষের জানমাল রক্ষায় তারা দীর্ঘমেয়াদী এবং স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্পের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, স্থায়ী সমাধানই পারে তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল হাসান জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে তিন হাজার জিওব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ ইতিমধ্যে চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা পুরো এলাকা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজনে ভাঙন রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!