গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে জরায়ুর টিউমার অপসারণের অস্ত্রোপচারের সময় আরিফা (৩০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন তার স্বজনরা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিহত আরিফা উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের নয়ানগর গ্রামের দিনমজুর শামীমের স্ত্রী। তিনি দুই কন্যা সন্তানের জননী। শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
স্বজনদের দাবি, শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে জরায়ুর টিউমার অপসারণের জন্য আরিফাকে কাপাসিয়ার আমরাইদ বাজারের আমরাইদ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যার পর তাকে স্যালাইন দেওয়া হলে তিনি অসুস্থ বোধ করেন এবং কান্নাকাটি শুরু করেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়।
নিহতের খালা-শাশুড়ি হুসনা অভিযোগ করেন, অপারেশন শুরুর প্রায় ১০ মিনিট পর বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রায় ২০ মিনিট জেনারেটর চালু না হওয়ায় স্বজনরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে চিকিৎসকরা জানান, রোগীর হার্টে জটিলতা দেখা দিয়েছে এবং দ্রুত ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে কিছুক্ষণ পর স্বজনরা দেখতে পান, আরিফাকে জীবিত নয়, মরদেহ হিসেবে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হচ্ছে।
আরিফার শাশুড়ির অভিযোগ, সুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে যাওয়া তার পুত্রবধূ একটি সাধারণ অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে মারা গেছেন।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কাপাসিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ নাসির আহমদ বলেন, অপারেশনের সময় রোগীর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। তবে লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় তদন্ত শুরু করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালেও একই হাসপাতালের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসপাতালটি সাময়িকভাবে সিলগালা করেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন