আল্লাহর ঘর মসজিদ, যেখানে মুসল্লিদের ঐক্য, ইবাদত ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হওয়ার কথা, সেই পবিত্র স্থানকে ঘিরেই এবার দেখা দিয়েছে তীব্র বিতর্ক। গাজীপুর মহানগরীর বড়বাড়ি এলাকার শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী বায়তুল নূরে আকসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নতুন কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে সোমবার (২০ জুলাই) সংবাদ সম্মেলন করেছেন মসজিদের দাতা পরিবার ও সংশ্লিষ্টরা।
সংবাদ সম্মেলনে মসজিদের ওয়াক্ফ সম্পত্তির মোতাওয়াল্লি ফজলুল হক বলেন, নতুন কমিটির সদস্যরা স্থানীয় সমাজের কেউ নন। কমিটি গঠনের বিষয়ে তাকে বা দাতা পরিবারের কাউকে কোনোভাবে অবহিত করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত একটি পক্ষ মসজিদের নামে বিভিন্ন উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করলেও সেই অর্থের কোনো স্বচ্ছ হিসাব সাধারণ মুসল্লিদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।
স্থানীয় মুসল্লিদের অভিযোগ, গত শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে গাছা থানা যুবদলের নেতা সোলাইমান সরকার এবং গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম মোমিনুর রহমানের নেতৃত্বে একদল বহিরাগত ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে একতরফাভাবে নতুন কমিটির ঘোষণা দেন। ঘোষিত কমিটিতে সোলাইমান সরকারকে সভাপতি এবং এস এম মোমিনুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
মুসল্লিদের দাবি, মসজিদের দাতা পরিবারের সদস্য, বর্তমান মোতাওয়াল্লি এবং সাধারণ মুসল্লিদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রভাব ও বহিরাগতদের উপস্থিতির কারণে মসজিদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, এর আগের দুই জুমার দিনও একইভাবে জোরপূর্বক কমিটি ঘোষণার চেষ্টা চালানো হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মসজিদ কমিটির সাবেক সভাপতি হাজী আবুল হাশেম সরকারের ছেলে ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুর আওয়াল সরকার। তিনি বলেন, জুমার নামাজের পর পবিত্র মসজিদের ভেতরে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় মসজিদের ইমাম ও সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গেও অশোভন আচরণ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, মসজিদ কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, এটি আল্লাহর ঘর। এখানে বিভেদ নয়, ঐক্য ও তাকওয়ার পরিবেশ বজায় থাকা উচিত। তিনি অবিলম্বে ঘোষিত কমিটি বাতিল করে দাতা পরিবার, মোতাওয়াল্লি ও সাধারণ মুসল্লিদের মতামতের ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন