× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫, ০৯:২৪ এএম

নবীগঞ্জে প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ বালু-মাটি ব্যবসা

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫, ০৯:২৪ এএম

অবৈধভাবে চলছে মাটি ও বালু উত্তোলন। ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

অবৈধভাবে চলছে মাটি ও বালু উত্তোলন। ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

নবীগঞ্জে কুশিয়ারা নদী যেন এখন সুবেদ মিয়ার ব্যক্তিগত সাম্রাজ্য। দিনের আলোয়, মানুষের চোখের সামনে এবং প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলনের ভয়াবহ কর্মকাণ্ড।

উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের চরগাঁও গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে সুবেদ মিয়া দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই নদী লুটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এ ব্যবসার সঙ্গে আরও জড়িত রয়েছেন কসবা গ্রামের এশাফর মিয়া, রাসেল মিয়া, ছাবু মিয়া ও সুনাম উদ্দিন।

স্থানীয়দের দাবি, এই চক্রের নেটওয়ার্ক এতটাই শক্তিশালী যে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালাতে গেলেই আগাম খবর পেয়ে যায় তারা। বিভিন্ন পয়েন্টে দৈনিক বেতনে নিয়োজিত লোকজন পাহারায় থাকে। ফলে প্রশাসন এলেও অধিকাংশ সময় অপরাধীরা ধরা পড়ে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুশিয়ারা নদীর চর ও মূল স্রোত থেকে দিবালোকে নির্বিচারে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। সুবেদ মিয়ার নেতৃত্বে একের পর এক ট্রাকে করে এসব মাটি পাঠানো হচ্ছে নিকটবর্তী হাফিজ ব্রিক ফিল্ডে।

ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই অবৈধ বহন কার্যক্রম। এতে ইনাতগঞ্জ-চরগাঁও সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ভয়াবহ গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা বর্ষাকালে শিক্ষার্থী, রোগীসহ সাধারণ মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সুবেদ মিয়া নদী লুটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। একাধিক ট্রাক ও গাড়ির মালিক হয়েছেন এই অবৈধ ব্যবসার টাকায়। প্রভাব ও ভয়ভীতির কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

নদীবিদদের মতে, এভাবে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের ফলে কুশিয়ারা নদীর চর ধ্বংস হচ্ছে, স্রোতপথ পরিবর্তিত হচ্ছে। এতে নদীভাঙন, ফসলি জমির ক্ষতি এবং পরিবেশ বিপর্যয়ের গুরুতর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু জরিমানা করে এই চক্রকে থামানো যাবে না। ৫০ হাজার বা ১ লাখ টাকা জরিমানা তাদের কাছে কিছুই নয়। অবিলম্বে মামলা করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কড়া ব্যবস্থা ছাড়া সুবেদ গংদের থামানো সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত যেই হোক, তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের অভিযান চলমান এবং তা অব্যাহত থাকবে।

এখন প্রশ্ন- প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপে কি থামবে সুবেদ মিয়ার বালু-মাটি সাম্রাজ্য? নাকি কুশিয়ারা নদী একদিন মানচিত্রের নদী থেকে লোককথার নদীতে পরিণত হবে?

সময়ই দেবে এর উত্তর। তবে নবীগঞ্জবাসীর প্রশ্ন একটাই কুশিয়ারা কি বাঁচবে, নাকি মাটি-বালু মাফিয়াদের থাবায় নদী, কৃষি ও পরিবেশ বিলীন হয়ে যাবে?

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!