× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫, ০৪:০২ পিএম

১০ মিনিটের পথ যেতে লাগে ৪০ মিনিট

ভাঙাচোরা সড়কে জনদুর্ভোগ চরমে

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫, ০৪:০২ পিএম

ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

গৌরীপুর পৌর শহরের বালুয়াপাড়া থেকে রামগোপালপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি ভাঙাচোরা ও বেহাল হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

স্বাভাবিকভাবে এই ৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সর্বোচ্চ সময় লাগার কথা ১০ মিনিট, তবে ভাঙাচোরা ও খানাখন্দপূর্ণ সড়কের কারণে চলাচল করতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির কোনো মানসম্মত সংস্কার হয়নি। বর্ষায় তীব্র জলাবদ্ধতা ও খারাপ ড্রেনেজ ব্যবস্থা সড়কের বিভিন্ন স্থানে গভীর গর্ত সৃষ্টি করেছে। শুকনো মৌসুমে ধুলাবালির কারণে এবং বর্ষায় কাদার কারণে চলাচল অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের চালক শামীম হোসেন বলেন, ‘গৌরীপুর থেকে রামগোপালপুর হয়ে ঔষধ সরবরাহ করতে কিশোরগঞ্জ যাচ্ছি। রাস্তার বেহাল অবস্থা ও লোডসহ গাড়ি চালানো অত্যন্ত কষ্টকর। গর্তে পড়ে গাড়ি দুলতে থাকে, এতে মানুষের পাশাপাশি গাড়িরও ক্ষতি হয়। ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগে, যা সময় ও কোম্পানির ব্যয় বাড়ায়।’

স্থানীয়রা জানান, জরুরি পরিবহন বিশেষত রোগী স্থানান্তরে মারাত্মক ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। এক রোগীকে সিএনজিতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় স্বজন মো. মঞ্জিল মিয়া বলেন, গাড়ি গর্তে পড়ে এতটাই দুলছিল যে মনে হচ্ছিল, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রাস্তাতেই দুর্ঘটনা ঘটবে। এই সড়কে জরুরি রোগী নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

সড়কটি আঞ্চলিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিদিন গৌরীপুর, রামগোপালপুর, ঈশ্বরগঞ্জ ও নান্দাইল হয়ে কিশোরগঞ্জগামী হাজারো মানুষের চলাচলের মাধ্যম।

এ ছাড়া কৃষিপণ্য, মাছ, হাঁস-মুরগি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনেও এই সড়কের ওপর নির্ভর করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সড়কের পাশে অবস্থিত একাধিক ফিসারি ও হ্যাচারির মালিকরা জানান, বাজারে সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে না পারায় প্রতিদিনই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

বলুহা গ্রামের হ্যান্ডট্রলি চালক অমল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, রাস্তা ভীষণ খারাপ থাকায় গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। গর্তে পড়ে গাড়ি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

রামগোপালপুর পি.জে.কে. উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এক ব্যবসায়ী বলেন, রাস্তা এমনভাবে খারাপ যে ইজিবাইক উল্টে গিয়ে যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা আহত হয়।

সড়কের পাশে তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বেশ কয়েকটি মাদ্রাসা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন সাইকেল বা ইজিবাইকে চলাচল করার সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকে।

রামগোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সুবল বলে, ‘একদিন সাইকেল দিয়ে আসতে গিয়ে গর্তে পড়ে পা কেটে যায়। আমরা দ্রুত রাস্তাটি মেরামত চাই।’

রামগোপালপুর পাওয়ার যোগেন্দ্র কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, রামগোপালপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে গৌরীপুর পর্যন্ত রাস্তাটি ভীষণ খারাপ। বিদ্যালয়ের সামনেও বড় বড় গর্ত রয়েছে, যার কারণে শিক্ষার্থীরা আহত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করবে বলে আশা করছি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটি ৫ বছর আগে সংস্কার করা হয়েছিল। রাস্তার বেহাল দশার বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

বাজেট বরাদ্দ পেলে স্থায়ী সংস্কার করা হবে। নতুন বছরে যেখানে বড় বড় ভাঙাচোরা অংশ রয়েছে সেখানে দ্রুত মেরামত করা হবে যাতে চলাচল স্বাভাবিক হয়।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!