ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

সুন্দরবনে দস্যুতা দমনে কঠোর অবস্থানে কোস্ট গার্ড : মহাপরিচালক

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

সুন্দরবনের নিরাপত্তা জোরদার, দস্যুতা দমন, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে বাগেরহাটের চিলা ইউনিয়নের জয়মনির ঘোল এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

মহাপরিচালক বলেন, দেশের সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্যোগকালীন উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

তিনি জানান, সুন্দরবন অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং বনদস্যুতা সম্পূর্ণ নির্মূলে সরকারের নির্দেশনায় কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

কোস্ট গার্ডের দাবি, ধারাবাহিক অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে বনদস্যু চক্রগুলো ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন ও তার সহযোগীরা সম্প্রতি কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।

রিয়ার অ্যাডমিরাল জিয়াউল হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যুদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মোংলার জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হাড়বাড়ীয়া স্থাপনের ফলে দস্যুদের রসদ, অস্ত্র ও অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা পাওয়ার পথ কার্যকরভাবে বন্ধ হয়েছে। এতে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং সুন্দরবনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি কোস্ট গার্ড স্টেশন হাড়বাড়ীয়ায় একদল দুর্বৃত্ত হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত একটি বাহিনীর স্থাপনায় হামলা শুধু সরকারি সম্পদের ক্ষতিই নয়, বরং সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা বলেও প্রতীয়মান হয়।

এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকার জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, কোনো ধরনের গুজব, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রভাবে না পড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি সুন্দরবনের নিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপদ জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করতে যে কোনো অপরাধসংক্রান্ত তথ্য কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ জানিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের জনগণের নিরাপত্তা, জাতীয় স্বার্থ এবং উপকূলীয় ও সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন মহাপরিচালক।