মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় সোহেল মুন্সী (৩৯) নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যার পর তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত পৌনে ২টার দিকে উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নের কালুরগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সোহেল মুন্সী ওই গ্রামের মৃত ইসমাইল মুন্সীর ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের খাবার শেষে সোহেল মুন্সী তার বসতবাড়ির পূর্ব পাশের একটি ঘরে একাই ঘুমাতে যান। সম্প্রতি সন্তান প্রসব করায় তার স্ত্রী নুপুর বেগম শাশুড়ি সেফালি বেগমের সঙ্গে পাশের আরেকটি ঘরে অবস্থান করছিলেন।
গভীর রাতে বাড়ির উঠানে হঠাৎ শব্দ শুনে সোহেলের মা ও স্ত্রী ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। ঘর থেকে বের হয়ে তারা দেখতে পান, উঠানে রাখা সোহেলের মোটরসাইকেলটি দাউদাউ করে জ্বলছে। একই সময় উঠানের মাটিতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় সোহেলের মরদেহ।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাতে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা সোহেলকে ঘর থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে আসে। পরে বাড়ির উঠানেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর জখম ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত হওয়ার পর দুর্বৃত্তরা তার মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।
জানা যায়, সোহেল মুন্সী সিডারচর এলাকা থেকে ভাঙারি মালামাল সংগ্রহ করে ব্যবসা করতেন। এছাড়া ২০২২ সালে বিদেশি মদসহ তিনি র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।
লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বোরহান-উল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেন বলেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।


