ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

‘দুলাভাই বাহিনী’র সঙ্গে কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধ, নিহত ১, আটক ২

বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র সঙ্গে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় বাহিনী প্রধানসহ দুই ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। এ সময় এক ডাকাত নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং বনজীবী, জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, খুলনার কয়রা উপজেলার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনের গভীরে ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যরা অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৫ জুন বিকেল ৫টা থেকে টানা দুই দিন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা, স্টেশন কয়রা ও স্টেশন নলিয়ানের সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযান চলাকালে ডাকাতদের বহনকারী দুটি নৌযান শনাক্ত করে কোস্ট গার্ড সদস্যরা থামার সংকেত দেন। তবে সংকেত অমান্য করে ডাকাতরা কোস্ট গার্ডকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। একপর্যায়ে ডাকাতদের একটি নৌযানে আগুন ধরে যায় এবং অপরটি ডুবে যায়।

বন্দুকযুদ্ধ শেষে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাহিনী প্রধান রবিউল ইসলাম (৫০) ও ডাকাত শওকত সরদারকে (৫৫) আটক করা হয়। তাদের কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে রবিউল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া অন্য ডাকাতদের ধরতে কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশ পুলিশের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকে। এর অংশ হিসেবে মঠবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে ডাকাত ইসরাফিল হাওলাদারকে (২৬) হাতের আঙুলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ সময় আরশিবসা নদীর বেসুখাল এলাকা থেকে ছয়টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, তিন রাউন্ড ব্যবহৃত কার্তুজ, একটি দেশীয় অস্ত্র, একটি মোবাইল ফোন এবং একটি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়।

আটকদের মধ্যে রবিউল ইসলাম ও নিহত শওকত সরদার খুলনার কয়রা উপজেলার এবং ইসরাফিল হাওলাদার সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার বাসিন্দা।

আটক ডাকাতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহত শওকত সরদারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ডাকাত ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি দস্যুদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও জানিয়েছে বাহিনী।