ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ জনে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১৬ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৯৬ শিশু।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে হালুয়াঘাট উপজেলার শাপলা বাজার এলাকার চার মাস বয়সী এক শিশু গত ১৮ জুন হাসপাতালে ভর্তি হয়। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যু সনদে উল্লেখ করা হয়েছে, হামের লক্ষণের পাশাপাশি শিশুটি নিউমোনিয়া ও হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ (হার্ট ফেইলিউর) সমস্যায়ও আক্রান্ত ছিল।
এ ছাড়া ফুলপুর উপজেলার পলাশকান্দা এলাকার চার মাস বয়সী এক শিশু গত ২ জুন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মারা যায়। নেত্রকোণা জেলার কমলাকান্দা উপজেলার মাইশারচর এলাকার চার মাস বয়সী আরেক শিশু, যাকে ১৬ জুন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে মৃত্যুবরণ করে। একই দিন রাত ৮টার দিকে সুনামগঞ্জ জেলার মদনপুর এলাকার আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। শিশুটি গত ৮ জুন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে ১৬ শিশু ভর্তি হয়েছে। গত ১৭ মার্চ থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত মোট দুই হাজার ৩৭৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে দুই হাজার ২২৬ শিশু। বর্তমানে ৯৬ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো শিশুকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি এবং কাউকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়নি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে অল্পসংখ্যক শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে শুরু করলেও মার্চের মাঝামাঝি থেকে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের ৬৪ শয্যাবিশিষ্ট পৃথক হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে তিনটি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে।
আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি এক শিশুর স্বজন মনোয়ার খাতুন বলেন, গত সাত দিনে আমার চোখের সামনে নয়জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একজন মা হিসেবে আমি খুবই আতঙ্কিত। আমার মেয়ের অবস্থাও ভালো নয়। প্রায় প্রতিদিনই একজন বা দুজন শিশু মারা যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এত বড় হাসপাতালে শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত আইসিইউ সুবিধা নেই। আইসিইউ থাকলে হয়তো অনেক শিশুর জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো। সরকারের উচিত দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিত করা।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নতুন ১৬ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

