ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্রি প্রশিক্ষণ দিল সেনাবাহিনী

আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার গাড়ির চাবি ম্রো কল্যাণ ছাত্রাবাসের পরিচালকের হাতে তুলে দিচ্ছেন। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

বান্দরবান জেলার অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে আলীকদমে প্রথমবারের মতো ম্রো সম্প্রদায়ের যুবকদের জন্য বিনামূল্যে ড্রাইভিং ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

বান্দরবান রিজিয়নের উদ্যোগে এবং আলীকদম সেনা জোনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে আলীকদম সদরের ম্রো কল্যাণ ছাত্রাবাসে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম রাকিব ইবনে রেজওয়ান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম সেনা জোনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম সেনা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. আবুল হাসান পলাশ, আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ম্রো কল্যাণ ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম রাকিব ইবনে রেজওয়ান বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় নয়, পার্বত্য অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এই কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ম্রো সম্প্রদায়ের যুবসমাজ আধুনিক ও কর্মমুখী দক্ষতা অর্জন করে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে। পরিবর্তনশীল বিশ্ব বাস্তবতায় টিকে থাকতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত সময়োপযোগী। পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়ন বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, বিনামূল্যে এ ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। বান্দরবানে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ম্রোরা দ্বিতীয় বৃহত্তম হলেও নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে তারা এখনো পিছিয়ে রয়েছে। সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগের মাধ্যমে ম্রো সম্প্রদায়ের নতুন প্রজন্ম শিক্ষিত ও দক্ষ হয়ে উঠবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে এ ধরনের কার্যক্রম চালুর আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, পার্বত্য অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিশেষ করে আলীকদম জোন ও বান্দরবান রিজিয়ন নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ম্রো কল্যাণ ছাত্রাবাসের মাধ্যমে ম্রো সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে খাদ্য, বাসস্থান ও শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে বর্তমানে এই সম্প্রদায়ের অনেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন।