ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

খনন ও ফিল্টারের দাবি

দেড়শ বছরের পুরোনো পুকুর, দেড় হাজার পরিবারের আর্তনাদ

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। উপকূলীয় পাথরঘাটা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি পুকুর থেকে কাকলী রানী, নুপুর রানীসহ কয়েকজন নারী ঘরের থালা-বাসন ধোয়া ও অন্যান্য কাজের জন্য পানি সংগ্রহ করছেন। তাদের মতো সারিবদ্ধভাবে নারী, পুরুষ ও শিশুরাও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে পানি সংগ্রহ করছেন।

কেউ প্লাস্টিকের ড্রামে, কেউ কলসিতে পানি তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে ওই পুকুরের পানি লাল ও কালচে হয়ে গেলেও সেটিই তাদের একমাত্র ভরসা।

দেড়শ বছরের পুরোনো এই পুকুরটি একসময় এলাকার পানির প্রধান উৎস ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটি ভরাট ও অবহেলায় পরিণত হওয়ায় এখন পানি সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।

পাথরঘাটা উপজেলার কাঠালতলী ইউনিয়নের কালিবাড়ি গ্রামের এই পুকুরের ওপর নির্ভরশীল প্রায় দেড় হাজার মানুষ এখন চরম পানির কষ্টে ভুগছেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে কাঠালতলী ইউনিয়নের কালিবাড়ি গ্রামের শতাধিক নারী-পুরুষ কলসি নিয়ে পুকুরপাড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

এ সময় প্রধান অতিথি ছিলেন জলবায়ু ও পরিবেশ বিষয়ক নাগরিক সংগঠন “ধরিত্রী রায় আমরা ধরা”এর পাথরঘাটা উপজেলা সমন্বয়কারী, উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউপি সদস্য জসিম তালুকদার, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এনএসএস-এর নার্গিস পারভীন মুক্তি, রাজিব হাসান, নিভা তালুকদার, সমির কুলু, শৈলেন মাঝি, শুভঙ্কর মাঝি, কাকলী রানী, জোৎস্না রানী, নুপুর রানী প্রমুখ।

স্থানীয় বাসিন্দা সমির কুলু ও শৈলেন মাঝি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কালিবাড়ি গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়েছে। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে এলাকার পুকুরগুলো শুকিয়ে যায়, ফলে সংকট আরও তীব্র হয়। তারা জানান, বহু বছর ধরে পুকুর খননের দাবি জানানো হলেও কোনো সরকারি সংস্থা এগিয়ে আসেনি।

স্থানীয় নুপুর রানী ও কাকলী রানী বলেন, গৃহস্থালির কাজের জন্য প্রতিদিন এই পুকুর থেকেই পানি সংগ্রহ করতে হয়। এই পুকুর ছাড়া তাদের আর কোনো বিকল্প নেই।

পানির গুণগত মান সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘পানি স্বাস্থ্যসম্মত কি না জানি না, তবে পানি লাল ও কালচে হয়ে গেছে।’

ইউপি সদস্য জসিম তালুকদার বলেন, পুকুরটি খনন এবং একটি ফিল্টার স্থাপনের জন্য তারা চেষ্টা করছেন।

শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে স্যানিটেশন ব্যবস্থাও ঝুঁকিতে রয়েছে।

এ অবস্থায় সুপেয় পানি সংকট নিরসনে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দ্রুত পুকুর খনন, খননকৃত পুকুর সংরক্ষণে গাইডওয়াল বা কাঁটাতারের ব্যবস্থা এবং সৌরবিদ্যুৎচালিত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালুর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, জনগণের দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।