ভোলার লালমোহন উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে কিশোরী স্ত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।
নিহত গৃহবধূ রুনা (১৭)। রুনা ওই গ্রামের হাফিজুর রহমানের মেয়ে। ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকা অভিযুক্ত স্বামী মোঃ জিহাদকে (২১) পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের গণেশপুর গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত জিহাদ পার্শ্ববর্তী পাংগাশিয়া গ্রামের মৃত মোঃ রফিকের ছেলে। পারিবারিকভাবে মামাতো-ফুফাতো ভাইবোন সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও প্রায় ৭ মাস আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। একাধিকবার পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। ঘটনার দিন রুনার মা পারিবারিক সালিশের উদ্দেশ্যে জিহাদের বাড়িতে যান। সে সময় রুনা ছিলেন তার বাবার বাড়িতে, আর জিহাদ নিজ বাড়িতে। সালিশ শেষ হওয়ার পর জিহাদ শ্বশুরবাড়িতে আসেন এবং এরপর তিনি লাপাত্তা হন।
ঘটনার সময় রুনার চাচি ও প্রত্যক্ষদর্শী নুরু নাহার বেগম জানান, সন্ধ্যায় রুনার ঘর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ পেয়ে তিনি সেখানে যান। ঘরে ঢুকে দেখেন, রুনা বিছানায় পড়ে আছে, তার বুকের ওপর একটি বালিশ রাখা এবং শরীর কম্বলে ঢাকা।
অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে কম্বল সরালে দেখা যায়, তার মুখে রক্ত রয়েছে। পরে স্থানীয় চিকিৎসক এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে থানায় খবর দেওয়া হয়।
লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামী মো. জিহাদকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভোলা থেকে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান।


