বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর ঘিরে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভেদ ভুলে একাট্টা হচ্ছেন দলটির সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা। মনোনয়ন বঞ্চনার ক্ষোভ, গ্রুপিং বা মতবিরোধ ছেড়ে ভোটের সমীকরণ বদলে দিতে চান নেতারা।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর রোববার (১১ জানুয়ারি) পূর্বপুরুষের ভিটা বগুড়ায় ফিরছেন তারেক রহমান। প্রায় দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরার পর ঢাকার বাইরে এটিই তার প্রথম সফর।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) নিজের পৈতৃক নিবাস বগুড়ার গাবতলী বাগবাড়ী হয়ে সেদিনই তিনি ঢাকায় ফিরবেন তিনি।
নেতার আগমনের আগেই বগুড়া-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোশারফ হোসেনের সঙ্গে তৃণমূলের সব নেতা জোট বেঁধে রেকর্ড গড়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক জেতাতে জোট বেঁধেছেন নেতারা। বিভেদ ভুলে একাট্টা হওয়ার বিষয়টি ভোটের সমীকরণ বদলে দেওয়ার বার্তা। উত্তর জনপদের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরি তারেক রহমানের আগমনে জনস্রোত নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৪ দিন সফরের প্রথমে আগামীকাল রোববার তিনি বগুড়ায় পৌঁছে হোটেল নাজ গার্ডেনে উঠবেন। রাত ৮টায় গাড়িবহর সেখানে পৌঁছাবে। তবে সফর সঙ্গী হিসেবে তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা জায়মা রহমান থাকবেন কি না নাজ গার্ডেন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি। নিরাপত্তা বিবেচনায় তারেক রহমান ও তার ১২৬ সফরসঙ্গীর রাত্রিযাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। হোটেল নাজ গার্ডেনের স্বত্বাধিকারী মো. শোকরানা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ ছাড়া নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা বিএনপি। সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুত রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) বগুড়ার সেন্ট্রাল হাই স্কুল মাঠের প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিদর্শন করেন জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। তিনি জানান, রোববার সকালে ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হবেন তারেক রহমান।
রাত ৮টায় বগুড়ায় পৌঁছে হোটেল নাজ গার্ডেনে রাত্রিযাপন করবেন। কেন্দ্রীয় ঈদগাহ (সেন্ট্রাল হাই স্কুল) মাঠের আয়োজন প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেখানে আগামী সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় গণদোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। উপস্থিত থাকবেন তারেক রহমান। সেখান থেকেই তিনি উত্তরাঞ্চল সফর শুরু করবেন। যাত্রাপথে বগুড়ার মহাস্থানে মাজার জিয়ারত এবং মোকামতলা দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। রংপুরের পীরগঞ্জসহ গোটা উত্তরাঞ্চল সফর শেষে বুধবার যাবেন নিজের পৈতৃক নিবাস বগুড়ার গাবতলী বাগবাড়ী।
দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমান বগুড়ায় পৌঁছে সার্কিট হাউজে রাত্রিযাপন করবেন বলে গুঞ্জন চলছিল। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন শঙ্কায় সার্কিট হাউজ পরিহার করা হয়েছে। গত কয়েকদিন গুঞ্জন ছিল বগুড়ার পাঁচ তারকা হোটেল মমইনে থাকবেন। সেখানকার কর্তৃপক্ষের আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতা ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সেটিও পরিহার করা হয়েছে বলে ধারণা করছে রাজনৈতিক মহল।
এদিকে, তারেক রহমান আসার আগেই তৃণমূল নেতাদের দূরত্ব হ্রাস পেয়েছে। বিভেদ ভুলে বগুড়া-৪ আসনে সব নেতা জোট বেঁধে রেকর্ড গড়েছেন। গত বুধবার নন্দীগ্রাম ফিলিং স্টেশন এলাকার দলীয় কার্যালয়ে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের যৌথ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জোট বেঁধে উপস্থিত হন একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী, সাবেক ও বর্তমান নেতারা।
ধানের শীষ মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলে মিষ্টি বিনিময়। তাকে সমর্থন দিয়ে জোট বাঁধেন বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ফজলে রাব্বী তোহা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তৌহিদুর রহমান খান শামীম চৌধুরী, সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি সাবেক মেয়র কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েল, আহসান বিপ্লব রহিম, সাবেক চেয়ারম্যান শামছুর রহমান, প্রভাষক আব্দুল বারী বারেক, ওসমান গণি সরকার বেলালসহ আলোচিত নেতা ও বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি।
নন্দীগ্রাম উপজেলা যুবদল সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রউফ রুবেল বলেন, নেতার সফর বার্তা পেয়ে শহীদ জিয়ার আদর্শের নেতারা একত্রিত। কেউই বিভেদ চান না। লিডার (তারেক রহমান) বগুড়ায় আগমনের আগেই সাবেক-বর্তমান নেতারা সব ভুলে হাত মিলিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ব্যাপক জনপ্রিয়তা, ধানের শীষ প্রতীক এবং প্রার্থীদের ক্লিন ইমেজে সাতটি আসনেই বিজয় নিশ্চিত হবে। বিপুল পরিমাণ ভোটে রেকর্ড গড়বেন তারেক রহমান। তিনিই হবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন