ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) নির্বাচনি এলাকায় ২০টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় ১৮৮টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ মোট পাঁচ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এদের মধ্যে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এবং বগুড়া-৫ ও বগুড়া-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৮১৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দবিবুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৩২২ ভোট পেয়েছেন।
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মীর মো. মাহমুদুর রহমান চুন্নু হাতপাখা প্রতীকে ৫ হাজার ৫৪০ ভোট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী শিপন কুমার রবিদাস কাস্তে প্রতীকে ১ হাজার ৭৭৪ ভোট এবং বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী খান কুদরত-ই সাকলায়েন ছাতা প্রতীকে ১ হাজার ১২৮ ভোট পেয়েছেন।
নির্বাচিত হয়ে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ জনগণের উদ্দেশে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, মহান আল্লাহর দরবারে অশেষ শুকরিয়া, বগুড়া-৫ আসনে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষের বিপুল বিজয় হয়েছে। এই বিজয়ের কৃতিত্ব শেরপুর-ধুনটের মুসলিম ও হিন্দুসহ অপরাপর সকল জনগোষ্ঠীর। ঐক্যবদ্ধ বিএনপির সকল নেতাকর্মীর ত্যাগ ও পরিশ্রম এই সাফল্যের ভিত্তি।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকেও ধন্যবাদ জানিয়ে আগামীতে শেরপুর ধুনটের গণমানুষের ভাগ্যোন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। জনগণ আমাদের অনেক বড় জয় উপহার দিয়েছে। এবার তাদের প্রত্যাশা পূরণে আমাদের কাজ করার পালা। আসুন, সেই লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হই এবং সবাই মিলে একসঙ্গে গড়ি সমৃদ্ধ শেরপুর-ধুনট।
অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী দবিবুর রহমান পরাজয় মেনে নিয়ে ফেসবুকে তিনিও এক পোস্টে লিখেছেন, বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে বিজয়ী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও ফুলেল শুভেচ্ছা। জনগণের দেওয়া এই দায়িত্ব তিনি যেন আমানত হিসেবে গ্রহণ করেন এবং ন্যায়, সততা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে এলাকার মানুষের খেদমত করতে পারেন—এই কামনা করি। নির্বাচনে জনগণের রায়কে আমরা সম্মানের সঙ্গে মেনে নিচ্ছি। রাজনীতিতে জয়-পরাজয় থাকবেই; কিন্তু আমাদের অঙ্গীকার থাকবে মানুষের কল্যাণ ও নৈতিক রাজনীতির পথে অবিচল থাকা। মহান আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী।
বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। ভোটগ্রহণ শেষে দুই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বেসরকারিভাবে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।



