ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই উৎপাদন, দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

পবিত্র রমজান ঘিরে বাজারে সেমাইয়ের চাহিদা বাড়ার প্রাক্কালে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে বগুড়ায় দুটি লাচ্ছা সেমাই কারখানায় চাঞ্চল্যকর অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদন, পোড়া তেল ব্যবহার এবং অনুমোদনহীন রাসায়নিক রং প্রয়োগের দায়ে কারখানা দুটিকে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পরিচালিত এ অভিযানে সদর উপজেলার আটা পাড়ার ইসলামিয়া লাচ্ছা সেমাই কারখানাকে ১ লাখ টাকা এবং বৃন্দাবন পাড়ার জেমি লাচ্ছা সেমাই কারখানাকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নিরাপদ খাদ্য বগুড়া অফিসার মো. রাসেল এবং ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মেহেদি হাসান।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, কারখানাগুলোতে সেমাই তৈরির ময়দা দুই পায়ে মাড়িয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে উৎপাদন প্রক্রিয়া চলছিল; পর্যাপ্ত স্যানিটেশন, হাত ধোয়ার ব্যবস্থা কিংবা স্বাস্থ্যসম্মত সংরক্ষণাগার ছিল না। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় ছিল পোড়া তেল ও অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার।

নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. রাসেল বলেন, ‘আইন অনুযায়ী এসব অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

যৌথ অভিযানে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নমুনা সংগ্রহ সহকারী শরীফুল ইসলাম, ভোক্তা অধিদপ্তরের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক আব্দুল কাদের এবং কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর বগুড়া শাখার সাধারণ সম্পাদক ফজিলাতুন্নেছা ফৌজিয়া উপস্থিত ছিলেন। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জেলা পুলিশ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পোড়া তেল ও অননুমোদিত রাসায়নিক রং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার, লিভার ও কিডনি জটিলতাসহ নানা অসুখের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। খাদ্য উৎপাদনে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি না মানা হলে তা সরাসরি ভোক্তার জীবনের ওপর প্রভাব ফেলে। আইন অনুযায়ী, খাদ্যপণ্যে ভেজাল বা অননুমোদিত উপাদান ব্যবহার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, শুধু জরিমানা নয়, পুনরাবৃত্তি ঘটলে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোক্তাদের সচেতনতা ও নিয়মিত নজরদারি—দুটোই একসঙ্গে না হলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা কঠিন।

বগুড়ার সাম্প্রতিক এই অভিযান আবারও মনে করিয়ে দিল, মুনাফার লোভে খাদ্যের সঙ্গে প্রতারণা কেবল আইনের লঙ্ঘন নয়; এটি মানুষের জীবন-স্বাস্থ্যের সঙ্গে নির্মম ছলনা।