দুপচাঁচিয়ায় গত কয়েক মৌসুম ধরে আলু চাষে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। মাঠ থেকে পাইকারি বাজার পর্যন্ত আলুর দামে ধস নেমেছে। কম দামে আলু কিনে স্বস্তি পাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ, কিন্তু উৎপাদন খরচও ওঠেনি, ফলে কৃষকেরা লোকসানেই পড়ছেন।
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় নতুন আলু প্রতি কেজি ৮ থেকে ৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কৃষকদের প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত ৫ কেজি ‘ঢলন’ দিতে হচ্ছে। এতে অধিকাংশ চাষিরা উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এবার দুপচাঁচিয়ায় ৪ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উফসি আলু ৪ হাজার হেক্টর এবং স্থানীয় দেশি আলু ৮শ হেক্টরে চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৯০ টন।
চাষি শচীন চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, তার তিন বিঘা জমি ও নলঘড়িয়ার আলু চাষি সাজ্জাদ আলী ৯ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। মাটির আর্দ্রতার কারণে এ বছর আলু চাষ দেরিতে শুরু হলেও ফলন বেশি হয়েছে। তবু কম দামে বিক্রির কারণে লোকসান হচ্ছে।
ফাটাপাকরি আলু পাইকারি দামে প্রতি মণ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং প্রতি বস্তা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রতি বিঘায় ২৪ হাজার থেকে ৩১ হাজার টাকা আয় হলেও খরচ হয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা।
কৃষক ফেরদৌস হোসেন বলেন, ঘাম ঝরিয়ে ফলানো আলু ৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হয়েছে। পাইকাররা শুরুতে ৫ টাকা প্রস্তাব করলেও শেষ পর্যন্ত ৬ টাকায় কিনেছে। কীটনাশক ব্যবহার না করায় এক বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। ন্যায্য দাম না পেলে আলু মাঠেই ফেলে নষ্ট করতে হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাইফুল আবেদীন জানান, জেলা ও উপজেলায় আলুভিত্তিক শিল্প-কারখানা থাকলে স্থানীয়ভাবে নতুন বাজার সৃষ্টি হবে। এতে কৃষকরা উৎপাদিত আলুর ন্যায্য দাম পাবেন, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং সরকারও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন