বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে সিএনজি চালিত অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সান্তাহার পৌরসভা এলাকায় প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের পর থেকে সান্তাহার পৌরসভার বিভিন্ন মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে আহতদের আদমদীঘি হাসপাতাল ও নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সিএনজি চালিত অটোরিকশা মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে আহতরা হলেন- নাদিম হোসেন (৪০), শহীদ হোসেন (৩২), এজাজ হোসেন (৪০), বাবু মিয়া (৩০) ও আলম (৩৫)। আর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা শ্রমিকদের মধ্যে আহতরা হলেন- স্বাধীন ইসলাম (৩২), স্বপন হোসেন (৪২), সুজন হোসেন (৩৩), শুভ হোসেন (৩৫) ও শহীদ আলী (৩১)। আহতদের মধ্যে স্বপন হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের সময় শহরের মোড়ে দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার উভয় সংগঠনের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার মীমাংসার জন্য মঙ্গলবার বিকেলে সান্তাহারে একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই পুনরায় দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তাদের হাতে লাঠি ও রেললাইনের পাথর নিয়ে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী উভয় পক্ষের মধ্যে পাথর নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ চলে। এ সময় সান্তাহার স্টেশন চত্বর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, লোকজনকে এদিক-ওদিক ছুটাছুটি করতে দেখা যায়। মুহূর্তেই আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে আদমদীঘি থানা ও সান্তাহার ফাঁড়ি পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সান্তাহার পৌরসভা এলাকার বিভিন্ন মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি সান্তাহার পৌরসভা এলাকায় এই দুটি সংগঠনের শ্রমিকদের মধ্যে সংঘটিত সংঘর্ষে শফিকুল ইসলাম ও সোহরাব হোসেন সোহাগ নামে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন। ওই মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে।



