কোরবানির পশুর চামড়াকে ঘিরে বগুড়ার চামড়া শিল্পের বড় একটি অংশ টিকে থাকলেও এবার চরম সংকটে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে কোটি কোটি টাকার বকেয়া আটকে থাকা, পুঁজি সংকট এবং বাজারে চামড়ার দাম কমে যাওয়ায় গত ছয় বছর ধরে এ খাতের ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে রয়েছেন। ফলে অনেকেই পেশা বদলে অন্য কাজে চলে গেছেন।
বগুড়া জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ট্যানারি মালিকদের কাছে জেলার ব্যবসায়ীদের প্রায় ৩২ কোটি টাকার বেশি বকেয়া রয়েছে। বকেয়া অর্থ আদায় না হওয়ায় মৌসুমি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নতুন করে চামড়া সংগ্রহে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
বগুড়া জেলা লেদার মালিক সমিতির সভাপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান খান বলেন, আমাদের প্রায় ৩২ কোটি টাকার বেশি বকেয়া পড়ে আছে। বকেয়া টাকা আদায়ে সমিতির পক্ষ থেকে সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে চিঠিও দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, শেরপুর উপজেলায় প্রতিবছর প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার চামড়ার ক্রয়-বিক্রয় হয়। ভালো মানের চামড়ার চাহিদা থাকলেও প্রায় ৫০ শতাংশ চামড়া মানসম্মত নয়।
এদিকে কোরবানির পশুর চামড়া কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানার অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস। এই অর্থ দিয়ে বছরজুড়ে এতিম ও দুস্থ শিক্ষার্থীদের খাবার, আবাসন ও শিক্ষার ব্যয় মেটানো হয়। ফলে চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পেলে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে কোরবানির আগে শেরপুর উপজেলায় পশুর সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে ৭৬ হাজার ৭২৯টি। বিপরীতে চাহিদা ৫৫ হাজার ৩২৯টি। ফলে প্রায় ২১ হাজার ৪০০টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
প্রজাতিভেদে উপজেলায় রয়েছে ২৩ হাজার ৬৭৮টি ষাঁড়, ৭ হাজার ৬৩৮টি বলদ, ৪ হাজার ৪৪৯টি গাভী, ৩৭ হাজার ১৫৯টি ছাগল এবং ৩ হাজার ৬০৩টি ভেড়া।
শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিয়াজ কাযমির রহমান বলেন, উপজেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। স্থানীয় খামারিরাই অধিকাংশ পশু প্রস্তুত করেছেন। এতে বাইরের এলাকার ওপর নির্ভরতা কমেছে এবং ক্রেতারা সহজেই পছন্দের পশু কিনতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, এ বছর পশুর উৎপাদন ভালো হয়েছে। খামারিদের প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত তদারকির কারণে স্বাস্থ্যসম্মত পশু প্রস্তুত করা সম্ভব হয়েছে। আশা করছি, খামারিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন।
কোরবানিকে সামনে রেখে চামড়া সংরক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু।
তিনি বলেন, পৌরসভাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কোরবানির দিনই বর্জ্য অপসারণের জন্য। চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ কর্মশালা করা হয়েছে। লবণ বিতরণ করা হয়েছে। চামড়া পাচার রোধে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
অপরদিকে কোরবানি সামনে রেখে মসলা ও লবণের বাজারও স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে দারুচিনি প্রতি কেজি ৪৮০ টাকা, জিরা ৫৬০ টাকা, সাদা এলাচ ৪ হাজার ৪০০ টাকা, কালো এলাচ ২ হাজার ৮০০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং লবণ ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম রয়েছে প্রতি লিটার ২০৪ টাকা।
মসলা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত বাজারে অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির প্রবণতা নেই এবং সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন