ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সূর্যমুখী বাগানে প্রকৃতিপ্রেমীদের ভিড়

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

বিস্তীর্ণ মাঠ। চারদিকে হলুদ রঙের ফুলের সমাহার আর মনমাতানো ঘ্রাণ। দূর থেকে দেখলে মনে হয় বিশাল হলুদ গালিচা। ফুলে ফুলে ভরে গেছে জমি। সবুজ পাতার আড়ালে সূর্যমুখীরা মুখ উঁচু করে আছে। মৌমাছিরা এক ফুল থেকে অন্য ফুলে ছুটে চলায় মুখরিত হয়ে উঠেছে জমি। 

এমন মনোমুদ্ধকর দৃশ্য চোখে পড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের সাতপাড়া গ্রামে। ওই গ্রামের মো. বারু মিয়া নামে এক কৃষক সূর্যমুখী চাষ করে এলাকায় চমক সৃষ্টি করেন। নানা প্রতিকূলতা অপেক্ষা করে কৃষি অফিসের সহায়তায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ তিনি এখন লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। প্রতিটি গাছে ফুল এসেছে। এক একটি ফুল যেন হাসিমুখে সূর্যের আলো ছড়াচ্ছে। এ ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য যেন আগত সবাইকে মোহিত করে তুলছে। অনেকেই স্মৃতির ফ্রেমে বন্দি করে ফুলের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন।

এদিকে এ বাগানটি কৃষি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে ইতোমধ্যে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। সূর্যমুখীর মনোমুদ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন জায়গা থেকে শতশত মানুষ ভিড় করেন বাগানে। তবে দিন দিন লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মালিক বাগানে প্রবেশ করতে হলে দর্শনার্থীদের টিকিট লাগিয়ে দিয়েছেন। প্রবেশ ফি রাখা হয়েছে ২০ টাকা। এতে করে বাড়তি টাকা আয় হচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন প্রতিবছর বাড়ছে সূর্যমুখী চাষের আবাদ। সবজিসহ অন্যসব ফসলের চাইতে কম পরিশ্রম সহজলভ্য উৎপাদন খরচ কম ও বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকরা এ চাষে ঝুঁকছেন।

কৃষক মো. বারু মিয়া বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে মৌসুম অনুযায়ী নানা প্রকারের কৃষি করছি। মূলত শখের বসে এ মৌসুমে ২ বিঘা জমিতে প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী চাষ করি। এ চাষ করতে কৃষি প্রণোদনা হিসাবে সরকার সার, বীজসহ অন্যান্য উপকরণ দিয়েছে।

৯০ দিন আগে জমিতে সূর্যমুখীর চারা লাগানো হয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি গাছে ফুল এসেছে। এ চাষ করতে সব মিলিয়ে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। তিনি আরও বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে বাগান দেখতে লোকজন ভিড় করছেন। বাগানে দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দৈনিক দুই হাজার টাকার ওপর আয় হচ্ছে বলে জানা যায়।

বাগান দেখতে আসা মো. সাব্বির ও স্বপন মিয়া বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুর্যমুখী বাগান দেখে বান্ধুদের নিয়ে এখানে ঘুরতে আসা। আসলে বাগান দেখে আমরা মুগ্ধ হয়েছি। এত বড় বাগান আর দেখিনি। ফুলে ফুলে ভরে আছে পুরো জমি। সত্যি এটি খুবই অসাধারণ। একসঙ্গে অনেক সূর্যমুখী ফুল দেখে খুবই ভালো লেগেছে। সবাই মিলে ছবি তুলেছি।

মো. জুয়েল মিয়া বলেন, এই বাগানটি মূলত ফেসবুকে দেখে এখানে আসা হয়েছে। ‘সূর্যমুখী ফুল দেখতে আমাদের খুব পছন্দ, তাই এখানে এসেছি ছবি তুলেছি। বাগানটির সৌন্দর্য দেখে মনটা আনন্দে ভরে গেছে।'

আখাউড়া উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইসমাইল মুন্সি বলেন, এ বছর আমার ব্লকে কৃষি প্রণোদনায় আওতায় সূর্যমুখীর ১০টি প্রদর্শনী পেয়েছি। এর মধ্যে কৃষক হারু মিয়া ২ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী করে। জমিতে ফলন ভালো হয়েছে। সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে বিনামূল্যে বীজ, সারসহ অন্যান্য উপকরণ দেওয়া হয়েছে। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় সূর্যমুখী চাষ কৃষকদের মাঝে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে। ফলন ভালো রাখতে সব ধরনের পরামর্শ কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে।