ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর ফলে হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ এবং চিকিৎসাসেবার পরিধি সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিক্রমে দেশের বিদ্যমান ৪১৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নবসৃষ্ট উপজেলাসহ আরও ১৩টি নতুন ১০১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রকল্প প্রণয়ন এবং প্রয়োজনীয় জনবল সৃষ্টির জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মান্নান সম্প্রতি নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন করেন। পরে হাসপাতালটিকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার বিষয়ে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উন্নীত করার অনুমোদন দেওয়া হয়।
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মান্নান গণমাধ্যমকে বলেন, “নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের সময় আমি স্থানীয় মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আলহামদুলিল্লাহ, সেই প্রচেষ্টার ইতিবাচক ফল এসেছে। এটি নবীনগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এবং আমার নির্বাচনি অঙ্গীকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবায়ন।”
তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালটি ১০১ শয্যায় উন্নীত হলে শুধু শয্যাসংখ্যাই বাড়বে না, নতুন চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো যুক্ত হলে নবীনগরের মানুষকে চিকিৎসার জন্য অযথা জেলা শহর বা ঢাকামুখী হতে হবে না।”
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে নবীনগরের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হবে। বিশেষ করে মা ও শিশুস্বাস্থ্য, জরুরি চিকিৎসা এবং বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য হবে। তবে অনুমোদনের পর প্রকল্প বাস্তবায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন হলে স্থানীয় জনগণ এর পূর্ণ সুফল পাবেন।

