ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ছুরিকাঘাতে চাচাকে হত্যা, ভাতিজার মৃত্যুদণ্ড

চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
সারোয়ার আলম। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

কুমিল্লায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে ছুরিকাঘাত করে চাচা মো. ছিদ্দিকুর রহমান (৩৭) হত্যার দায়ে ভাতিজা মো. সারোয়ার আলমকে (৩২) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অপর ধারায় তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৪ হাজার টাকা জরিমানা এবং দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এই রায় দেন।

হত্যার শিকার ছিদ্দিকুর রহমান কুমিল্লা জেলা সদর দক্ষিণ থানার রাজাপাড়া এলাকার কাজীপাড়া গ্রামের সফর আলীর ছেলে। তিনি পেশায় বৈদ্যুতিক কাজের ঠিকাদার ছিলেন। ঘটনার সময় তার তিন বছর বয়সী কন্যা সন্তানও ঘরে ছিল। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. সারোয়ার আলম একই বাড়ির মো. বাচ্চু মিয়ার ছেলে এবং পেশায় বৈদ্যুতিক সামগ্রীর ব্যবসায়ী।

মামলার এজহার ও অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রাঢ়া রাজাপুরা চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের পাশে একটি কালো ড্রামে ছিদ্দিকের মৃতদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ স্থানীয়দের উপস্থিতিতে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে।

ঘটনার পর ছিদ্দিকুর রহমান বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ায় কুমিল্লা দক্ষিণ থানায় জিডি হয়। ওই জিডির সূত্র ধরে পরিবারের লোকজন মরদেহ সনাক্ত করেন।

পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চাঁদপুরের পুলিশ পরিদর্শক মীর মাহবুবুর রহমান ২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার মিয়ার বাজার এলাকা থেকে আসামী সারোয়ার আলমকে গ্রেপ্তার করে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করেন। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ২ অক্টোবর চার্জশীট দাখিল করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, বাড়ির চলাচলের রাস্তা না দেয়ায় ছিদ্দিককে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল আসামী। ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় কুমিল্লা দক্ষিণ থানার চাঁদপুর এলাকায় ফোন করে তাকে ডেকে নিয়ে প্রথমে আটকে রাখে এবং রাতে শরীরের একাধিক স্থানে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। পরদিন ১০ নভেম্বর মরদেহ ড্রামে রেখে চাঁদপুরের রাঢ়া রাজাপুরা এলাকায় ফেলে এবং পিকআপ ভ্যান ও অটোরিকশায় কুমিল্লা নিয়ে যায়।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কুহিনুর বেগম এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম শাওন। 

পিপি কুহিনুর বেগম জানান, পাঁচ বছরের বেশি সময় চলা মামলায় আদালত ২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। সাক্ষ্যগ্রহণ, নথিপত্র পর্যালোচনা এবং আসামির অপরাধ স্বীকারের ভিত্তিতে বিচারক রায় দেন। অপর আসামী সারোয়ারের ভাই নুরে আলমকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।