ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বিএনপি নেতার বাড়িতে ভাঙচুর, পুলিশ ও সাংবাদিকের ওপর হামলা

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
ফরিদগঞ্জে সন্ত্রাসী কায়দায় বিএনপির নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় সন্ত্রাসী কায়দায় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বহিরাগত লোক দিয়ে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোতাহার হোসেন পাটওয়ারীর সীমানা প্রাচীর ভেঙে দিয়েছে তারই ভাতিজা মাহাবুব ও আবু জাফর। তারা সম্পত্তি নিজের দাবি করে পুনরুদ্ধারের নামে দেয়াল ভাঙচুর করেছে বলে সাংবাদিকদের জানান। 

এ ঘটনায় ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহে গেলে পুলিশ ও সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাপুর গ্রামের পাটওয়ারীর বাড়িতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোমেন পাটওয়ারীর নির্মাণ করা দেয়াল ভাঙচুর করে তারই ভাতিজা মাহাবুব পাটওয়ারী ও জাফর পাটওয়ারী নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী। এ সময় অনেকের হাতে অস্ত্র দেখতে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সকাল ৬টার দিকে হঠাৎ করে মোতাহার হোসেন পাটওয়ারীর বাড়িতে অস্ত্রসহ তিনটি মাইক্রো ও একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী ঢুকে। এর সঙ্গে ছিল মাহাবুব, জাফর ও তার বোনসহ অন্যরা। 

তারা দেয়াল ভাঙচুর করেন। হুমকি ও ভয়-ভীতি দেখান। কেউ বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়, আবার কেউ দরজা বন্ধ করে স্তব্ধ হয়ে যায়। ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ আসে, পাশাপাশি সাংবাদিকরাও আসেন। ভিডিও করার কারণে তারা সাংবাদিক আব্দুস সালামের ওপর হামলা করেন এবং তার মোবাইল কেড়ে নেয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে তারা পুলিশ সদস্য সুমনকে কিল ঘুষি মারেন। 

হামলার শিকার সাংবাদিক আব্দুস সালাম বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে আমি আর মেহেদি সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি একদল লোক সীমানা প্রাচীর ভাঙছে। এ ঘটনার ভিডিও করতে গেলে কয়েকজন এসে আমাকে কিল ঘুষি মারেন এবং আমার মোবাইল কেড়ে নেয়। আমি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি।

আবু জাফর পাটওয়ারী বলেন, এটা আমাদের সম্পত্তি। ৫ আগস্টের পর সে (মোতাহার পাটওয়ারী) জোর করে দেয়াল নির্মাণ করেছে। আজ আমরা দখল মুক্ত করেছি। 

মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী বলেন, তারা (মাহাবুব ও জাফর) শতাধিক সন্ত্রাসী এনে তিনটি গাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আমার সীমানা প্রাচীর ভেঙে দিয়েছে। 

বহিরাগত সন্ত্রাসীরা তিনটি গাড়িতে অস্ত্র নিয়ে ফরিদগঞ্জে প্রবেশ করে ভাঙচুর করে নিরাপদে আবার বেরিয়ে গেল। আ.লীগের আমলে তারা আমার ঘর ভেঙে দিয়েছে। আমার যাতায়াতের পথে দেয়াল দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এখন পুরোনো স্টাইলে আবার আমার সীমানা প্রাচীর ভেঙে দিয়েছে। ঘটনাটি আ.লীগের আমলকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। 

ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাস্থালে পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।’ পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জবাব না দিয়ে এড়িয়ে যান।  

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) লুৎফুর রহমান বলেন, ফরিদগঞ্জে বহিরাগতদের দেশি ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ হামলার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।