ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম-১২ : ভোটের মাঠে বিএনপির ভিন্ন সমীকরণ

মোরশেদ আলম, পটিয়া (চট্টগ্রাম) 
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫, ০৯:৪২ পিএম
পটিয়া আসনের বিএনপির নেতারা। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে নির্বাচনি উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। একদিকে বিএনপির অভ্যন্তরীণ মনোনয়ন কোন্দল, অন্যদিকে একাধিক দলের প্রার্থীদের সক্রিয় উপস্থিতিতে ভোটের সমীকরণ জটিল হয়ে উঠেছে।

এখন পর্যন্ত এই আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে বিএনপির পাঁচ জন নেতা ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ইসলামী ফ্রন্ট, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য এনামুল হক এনামকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হলেও একই আসনে দলটির আরও চার প্রভাবশালী নেতা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করায় প্রকাশ্য কোন্দল সামনে এসেছে। ফলে নির্বাচনি মাঠে বিএনপির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পটিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য গাজী মুহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য সৈয়দ সাদাত আহমেদ এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুদ্দীন সালাম মিঠু মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে গাজী শাহজাহান জুয়েল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

গাজী শাহজাহান জুয়েল ও সাইফুদ্দীন সালাম মিঠু পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রতিনিধি পাঠিয়ে মনোনয়ন ফরম নেন। অন্যদিকে, সৈয়দ সাদাত আহমেদ ও গাজী সিরাজ উল্লাহ জেলা নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকে প্রতিনিধির মাধ্যমে ফরম সংগ্রহ করেন।

এদিকে, বিএনপি জোট থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেজামে ইসলাম পার্টি ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী এখনো মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেননি। তিনি জোটগতভাবে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার আশায় রয়েছেন।

অন্যদিকে, গণঅধিকার পরিষদের ডা. এমদাদুল হাসান কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। ছাত্রদের গড়া নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকেও ব্যবসায়ী শহীদুল আলমের নাম আলোচনায় থাকলেও দলটি এখনো চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করেনি।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছাড়াও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীদের মধ্যে রয়েছেন— জামায়াতে ইসলামীর ডা. ফরিদুল আলম, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের আবু তালেব সারতাজ, জাতীয় পার্টির নুরুচ্ছফা সরকার, ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ এয়ার মুহাম্মদ পেয়ারু, এলডিপির এম এয়াকুব আলী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাদাত হোসেন হিরু।

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান জানান, নির্বাচনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের প্যানেল তৈরি করা হয়েছে। ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মোট ১১৩টি ভোটকেন্দ্রের সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৫২ জন, নারী ১ লাখ ৬৮ হাজার ৮৪২ জন এবং ১ জন হিজড়া ভোটার রয়েছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন না হলে এই আসনে দলটির জন্য লড়াই কঠিন হয়ে উঠতে পারে। আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকসহ জামায়াত, ইনসানিয়াত বিপ্লব, ইসলামী ফ্রন্ট, এলডিপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের ভোট সমীকরণে বিএনপির প্রার্থী চাপে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।