ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

শপিং মলের উদ্বোধন, যানজটে নাকাল নগরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ১১:৩৬ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধাসহ আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক সুযোগ সুবিধার প্রতিশ্রুতি থাকলেও উদ্বোধনের দিনেই তীব্র যানজটে ভোগান্তিতে পড়েছেন চট্টগ্রাম নগরীর হাজারো মানুষ। ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও এমন দুর্ভোগে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।

পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দখল করে শত শত গাড়ি পার্কিং করা হয়, ফলে যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এই চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র দামপাড়া এলাকায় নবনির্মিত শপিং মল মেরিডিয়ান কোহিনূর সিটির উদ্বোধনকে ঘিরে।

তীব্র যানজটে আটকে থাকতে দেখা যায় জরুরি রোগী বহনকারী একাধিক অ্যাম্বুলেন্সকেও। অথচ ঠিক সেই সময়ই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিমসহ নগরের বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি।

সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার বিকেল ৩টায় মেরিডিয়ান হোল্ডিংসের সিগনেচার প্রকল্প কোহিনূর সিটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নির্ধারিত ছিল। পরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে জানানো হয়, পাশের বাওয়া স্কুলে নির্বাচন কমিশনের একটি কর্মসূচি থাকায় অনুষ্ঠান সাড়ে ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে।

তবে সময় গড়াতে গড়াতে উদ্বোধন শুরু হয় বিকেল ৫টার কিছু পরে। এরই মধ্যে নগরীর অন্যতম ব্যস্ত সড়কটি ভয়াবহ যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে।

অনুষ্ঠান শুরুর পর পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় অতিথি ও দর্শনার্থীদের গাড়ি সড়কে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে উপায় না পেয়ে শত শত গাড়ি মূল সড়কেই পার্কিং করতে দেখা যায়।

যানজটে আটকে থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্সের চালক মো. শরিফ বলেন, ২ নম্বর গেট থেকে দামপাড়া আসতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে। পুরো সড়কজুড়েই যানজট ছিল, বিকল্প কোনো পথও পাইনি। এ সময় কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ এটাই বাস্তবতা।

আরেক সিএনজি চালক আরিফুর রহমান জানান, বাওয়া স্কুল খোলা থাকলে স্কুল টাইমে কিছুটা যানজট হয়, কিন্তু সাধারণত এই সড়কে তেমন সমস্যা থাকে না। এখন যদি এমন অবস্থা হয়, রমজান মাসে চলাচল করা আরও কঠিন হয়ে যাবে।

যানজট ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে জানতে চাইলে মেরিডিয়ান হোল্ডিংসের চিফ অপারেটিং অফিসার মোহাম্মদ ফাহিম বলেন, আমাদের সুবিশাল পার্কিং ব্যবস্থা রয়েছে। উদ্বোধনের দিন হওয়ায় মানুষের চাপ বেশি ছিল, তাই কিছুটা যানজট সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে হয়তো এমনটা হবে না। আমাদের মার্কেটে ১১০ জন নিরাপত্তাকর্মী রয়েছে, যারা নিরাপত্তার পাশাপাশি যানজট নিরসনেও কাজ করছে।

তবে মার্কেটের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ওশান সিকিউরিটির একাধিক কর্মী জানান, তাদের মাত্র ২৫ জন নিরাপত্তাকর্মী মার্কেটটির নিরাপত্তা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম। এছাড়া মেরিডিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান কোহিনূর কামাল, এমডি এস. এম. কামাল পাশাসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সড়ক দখল করে গাড়ি পার্কিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক (প্রশাসন) সুশোভন চাকমা বলেন, সীমিত জনবল নিয়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। গাড়ির চাপ অতিরিক্ত হলে যানজট তৈরি হয়। তবে মূল সড়ক দখল করে পার্কিং করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২৩ তলা বিশিষ্ট এই মিক্সড-ইউজ ভবনের প্রথম ১০ তলায় শপিং মল এবং ১১ থেকে ২৩ তলা পর্যন্ত বিলাসবহুল হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ এটিকে আধুনিক শপিং, বিনোদন ও লাইফস্টাইল ডেস্টিনেশন হিসেবে প্রচার করলেও উদ্বোধনের দিনের অভিজ্ঞতা নগরবাসীর কাছে ছিল ভিন্ন উন্নয়নের বদলে বিশৃঙ্খলা, সুবিধার বদলে ভোগান্তি।

নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় বাণিজ্যিক স্থাপনা চালুর আগে ট্রাফিক ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট, পার্কিং ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান এবং জরুরি সেবার নির্বিঘ্ন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু এই ক্ষেত্রে কার্যকর প্রস্তুতির কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ মেলেনি। এমন অবস্থা চলতে থাকলে নগরীর ট্রাফিক ও জননিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।