চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী বলেছেন, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, ভোট দিতে গিয়ে কোনো অবস্থাতেই ভোট না দিয়ে কেন্দ্র থেকে ফিরে আসা উচিত নয়। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়াকে তিনি নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যক্ষ হেলালী বলেন, এভাবে একটি ভোটকেন্দ্র ছেড়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। চারশ গজের মধ্যে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। তাহলে গণমাধ্যমকর্মীরা তাদের মোবাইল কোথায় রেখে যাবেন? সাধারণ নাগরিকরাও তো সারাক্ষণ মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখেন।
এই বিধিনিষেধের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ জানানো হবে, যাতে এ ধরনের বৈষম্যমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিধিনিষেধ পরিহার করা হয়।
নারী কর্মীদের প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী বলেন, বিভিন্ন এলাকায় তাদের নারী কর্মীদের প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং ভোট দিতে গেলে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
নির্বাচনে নিজের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমি শতভাগ আশাবাদী। গত ৩৫ বছর ধরে ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। মানুষের অধিকার আদায়ে প্রতিটি আন্দোলন–সংগ্রামে রাজপথে ছিলাম।
তিনি আরও বলেন, সমাজকর্মী হিসেবে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর হিসেবেও কাজ করেছেন। চট্টগ্রাম–১০ আসনে গণসংযোগে গিয়ে যে সাড়া পেয়েছেন, তাতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত হবে বলে তার আশা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নগর আমির মো. নজরুল ইসলাম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, চট্টগ্রাম–১০ আসনের নির্বাচন পরিচালক ফকরে জাহান সিরাজী, সহকারী আসন পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. মাহাবুবুল হাসান রুমি এবং নির্বাচন পরিচালনা সচিব মো. নুরুল আলমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।

