ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত তরমুজ, লোকশানের আশঙ্কা চাষিদের

মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ৭, ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন তরমুজ চাষিরা। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে নিচু এলাকার তরমুজ খেত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবাদ করা জমির প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি অধিদপ্তর। আবার বৃষ্টি হলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

সরেজমিনে উপজেলার ইছাখালী, মায়ানী, মিঠানালা, মঘাদিয়া, খইয়াচড়া ও সাহেরখালী ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, ভারী বৃষ্টির কারণে তরমুজ ক্ষেতগুলোতে পানি জমে গেছে। এতে পাকা, আধাপাকা ও কচি তরমুজের একটি অংশ পানিতে ডুবে আছে।

মাঠে মাঠে সেচ দিয়ে খেত থেকে পানি বের করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কোথাও আবার বিষণ্ন মনে ক্ষেতের পাশে বসে থাকতে দেখা গেছে কৃষকদের।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার হিঙ্গুলী, ওসমানপুর, ধুম, মায়ানী, মঘাদিয়া, খইয়াচড়া, ইছাখালী, মিঠানালা, সাহেরখালী ও কাটাছরা এই ইউনিয়নগুলোতে ৭৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে।

জমি ইজারা নিয়ে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার কৃষকরা এখানে তরমুজ চাষ করেছেন। তাদের দেখাদেখি স্থানীয় অনেক কৃষকও তরমুজ চাষে আগ্রহী হন। তবে মঙ্গলবারের বৃষ্টিতে নিচু জমির খেতগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ডোমখালী এলাকার কৃষক মোহাম্মদ তারেক বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি এবার ৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে সমপরিমাণ টাকা বিক্রি করে পুঁজি উঠলেও লাভের মুখ দেখার আগেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

মিঠানালা ইউনিয়নের পশ্চিম চরের কৃষক আব্দুল হাই বলেন, মহাজন, এনজিও ও আড়তদারের কাছ থেকে আগাম টাকা নিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা খরচ করে ২৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এমনিতেই ফলন ভালো হয়নি, তার ওপর বৃষ্টিতে খেতে পানি জমে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কাটাছরা ইউনিয়নের কৃষক শাহাদাত হোসেন বলেন, ৮ একর জমিতে তরমুজ চাষ করলেও মাত্র দুইবার ফলন তুলতে পেরেছেন। এরপর বৃষ্টিতে অনেক তরমুজ নষ্ট হয়ে গেছে।

মিরসরাই উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন বলেন, বৃষ্টিতে অনেক চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে আর বৃষ্টি না হলে ক্ষতির পরিমাণ সীমিত থাকতে পারে।

এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, হঠাৎ ভারী বৃষ্টিতে খেতে পানি জমে তরমুজ চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আবাদকৃত জমির প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষতির মুখে পড়েছে। যেসব খেতে তরমুজ পরিপক্ব হয়েছে, সেগুলো দ্রুত বাজারজাত করতে পারলে ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।