চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় ধান খাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বাবুই পাখির বাসা ভেঙে ছানা ও ডিম ধ্বংসের ঘটনায় এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার পোপাদিয়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান ফারুক।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি বাচা মিয়া (৪৮)। তিনি পোপাদিয়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। তাকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও মেহেদী হাসান ফারুক জানান, স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে ২৯টি মৃত বাবুই পাখির ছানা এবং ভাঙা ডিম পাওয়া যায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাটি স্বীকার করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ধান খাওয়ার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি তালগাছ থেকে বাবুই পাখির একাধিক বাসা ভেঙে ফেলেন। এতে ছানা ও ডিম ধ্বংস হয়।
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১৩-এর ৩৮ ধারা অনুযায়ী তাকে এ দণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
নেচার কনজারভেশন অ্যালায়েন্সের সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান রাব্বি বলেন, বাসাগুলো অভিযুক্তের বাড়ি থেকে দূরে ছিল এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তিনি এ কাজ করেছেন। তিনি আরও জানান, বাবুই পাখি সাধারণত কৃষিজমির ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকার করে।
বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা জানান, বিশ্বে প্রায় ১১৭ প্রজাতির বাবুই পাখি থাকলেও বাংলাদেশে মাত্র তিন প্রজাতি দেখা যায়, যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। পরিবেশ বিপর্যয় ও নির্বিচার শিকারের কারণে এই পাখির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশীয় বাবুই সাধারণত তাল, নারিকেল ও খেজুর গাছে ঝুলিয়ে বাসা তৈরি করে। অনেকেই ভুল ধারণা থেকে মনে করেন, এই পাখি ফসলের ক্ষতি করে। কিন্তু বাস্তবে এটি ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকারই বেশি করে।
প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ এই পাখি সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আইনে বাবুই পাখি সংরক্ষিত প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত। তাই এটি হত্যা বা ক্ষতি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

