চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকতে দোলনায় বসাকে কেন্দ্র করে পর্যটক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮ জন পর্যটক।
শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
আহত পর্যটকরা হলেন: শেখ জাহিল আবরার (২১), তাজিম (২৪), মো. রাজু (২২), মো. ফজলে রাব্বি (২১), মো. রাদ (২১), সৈয়দ তাসফিকুল ইসলাম (২৫), মো. আলিফ (২১) ও মেহেদী হাসান (২২)। তাদের মধ্যে একজন ময়মনসিংহ, একজন মানিকগঞ্জ এবং বাকিরা ঢাকার বাসিন্দা।
জানা গেছে, তারা সবাই ঢাকার বারিধারা নতুনপাড়া এলাকার ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সে (UITS)-এর শিক্ষার্থী। আহতদের মধ্যে ফজলে রাব্বিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকত কমিটির সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম জানান, সকালে কয়েকজন পর্যটক সৈকতের একটি দোলনায় বসতে গেলে সেটি ভেঙে যায়। এ নিয়ে স্থানীয় দোকানদারদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
আহত শিক্ষার্থী মাহীন অভিযোগ করেন, ‘আমরা ১০ বন্ধু মিলে ঘুরতে গিয়েছিলাম। আমাদের দুজন বন্ধুকে একা পেয়ে স্থানীয় কিছু লোক হামলা চালায়। পরে আমরা বিষয়টি মীমাংসা করতে গেলে আমাদের ওপরও হামলা হয়। এতে আটজন আহত হই।’
তিনি আরও বলেন, হামলার সময় কয়েকটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে পুলিশ আসার আগেই সেগুলো ফেরত দিয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন জানান, আহতদের মধ্যে সাতজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তবে হামলায় জড়িত কাউকে তখন পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।


