ঢাকা রবিবার, ০৭ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে ১০ লাখ গাছ রোপণের ঘোষণা মেয়র শাহাদাতের

চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরীকে আরও সবুজ ও বাসযোগ্য করতে ১০ লাখ গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রোববার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নগর ভবন সংলগ্ন টাইগারপাস এলাকার বিন্না ঘাস শেডে আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষ পরিচর্যা কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

মেয়র বলেন, পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং একটি বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে ব্যাপক সবুজায়নের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই চট্টগ্রামজুড়ে ১০ লাখ গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, 'গাছ আমাদের অক্সিজেন, ফল, কাঠ ও ওষুধ দেয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছের ভূমিকা অপরিসীম। তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, এর নিয়মিত পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে।'

করোনা মহামারির সময় মানুষ অক্সিজেনের গুরুত্ব নতুন করে উপলব্ধি করেছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগেই একটি সবুজ ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, 'আমরা একটি ক্লিন, গ্রিন, হেলদি অ্যান্ড সেফ সিটি গড়ে তুলতে চাই। কালুরঘাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কের মিড-আইল্যান্ডগুলো ফুল ও সবুজে সাজানো হবে। পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন খালি জায়গা, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হবে।'

তিনি কর্ণফুলী ও হালদা নদীসহ নগরীর খাল ও জলাশয় রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। যত্রতত্র প্লাস্টিক ও বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জলাবদ্ধতার সমস্যাও বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে মেয়র বলেন, নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজ উদ্যোগে আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার করলে ডেঙ্গুমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর নগরী গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাসব্যাপী বৃক্ষ পরিচর্যা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরীর বিভিন্ন জোনে পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ, পরিচর্যা ও সবুজায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মেয়রের একান্ত সহকারী জিয়াউর রহমান জিয়া, বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন আলী জয় এবং বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।