বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এবং ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর মধ্যে মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন আগামীকাল সোমবার (৮ জুন) নয়াদিল্লিতে শুরু হবে। চার দিনব্যাপী এ সম্মেলন চলবে ১১ জুন পর্যন্ত।
সম্মেলনে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অংশ নেবে।
রোববার (৭ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সম্মেলনে অবৈধ ‘পুশইন’, সীমান্ত হত্যা এবং সামগ্রিক সীমান্ত নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সীমান্তে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অবৈধ পুশইনের যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করা হবে।’
এদিকে বিএসএফের সম্ভাব্য ‘পুশইন’ প্রচেষ্টা প্রতিরোধে দেশের ২৬টি সীমান্তবর্তী জেলায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে বিজিবি। সীমান্তজুড়ে ২৪ ঘণ্টা টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত চার দিনে বিএসএফের ২১টি পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় নারী ও শিশুসহ দুই শতাধিক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতের পাঁচটি রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। সদস্যরা চার পালায় বিভক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্ত নজরদারিতে সহায়তা করছেন।
যেসব সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে পুশ-ইনের আশঙ্কা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, ফেনী, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, খাগড়াছড়ি, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, কুমিল্লা, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং শেরপুর জেলায়।

