চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার থানার আলোচিত বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার্থী আশফাক কবির সাজিদ হত্যা মামলার এক সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রামের র্যাব-৭।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মামলার সন্দেহভাজন ইশতিয়াককে চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ইশতিয়াক চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানার ডিসি রোড (শিশু কবরস্থান) এলাকার ইদ্রিসের ছেলে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, নিহত আশফাক কবির সাজিদ কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার দাতিনাথালীপাড়া গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে। তিনি চট্টগ্রামের বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
গত ১২ এপ্রিল বিকেলে সাজিদ ও তার বন্ধু ফারদিন হাসান চকবাজারের বৌ-বাজার রাস্তার মুখে একটি টং দোকানের সামনে বসে কথা বলছিলেন। এ সময় আইমন, অনিক, রানা প্রকাশ মাইকেল রানা, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ এবং মিসকাতুল কায়েসসহ অজ্ঞাতনামা ৫ থেকে ৬ জন দুর্বৃত্ত ধারালো চাকুর ভয় দেখিয়ে সাজিদকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
বিকেল আনুমানিক ৪টা ২০ মিনিটের দিকে সাজিদ কৌশলে দুর্বৃত্তদের হাত থেকে প্রাণে বাঁচতে দৌড়ে ডিসি রোডস্থ মৌসুমি আবাসিক এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের ৮ তলায় প্রবেশ করেন এবং ভবনের প্রধান গেইট আটকে দেন। কিন্তু দুর্বৃত্তরা তার পিছু ধাওয়া করে ওই ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। তারা ভবনের দারোয়ানকে ‘ভিতরে চোর প্রবেশ করেছে’ বলে মিথ্যা তথ্য দিলে দারোয়ান মেইন গেইট খুলে দেয়।
ভিতরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা ভবনের উপরে উঠে সাজিদকে প্রথমে মারধর করে। এরপর তাকে ওই নির্মাণাধীন ভবনের ৮ তলার লিফটের ফাঁকা জায়গা দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিলে চকবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় সাজিদকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হত্যাকাণ্ডের পরদিন অর্থাৎ ১৩ এপ্রিল নিহতের বাবা বাদী হয়ে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৭ তাদের গোয়েন্দা নজরদারীতে রাখে।

