টানা কয়েক দিনের অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পর ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সার্বিক পরিস্থিতি। নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে বাড়ি ফিরছেন দুর্গত মানুষ। তবে পানি নামলেও শেষ হয়নি দুর্ভোগ। জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো রয়ে গেছে বন্যার ক্ষতচিহ্ন, জমে থাকা কাদা-আবর্জনা, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি এবং জীবিকা হারানোর কষ্ট।
জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় জেলার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১২ হাজার ৫০০ পরিবার। কৃষি, সড়ক যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, পৌরসভা ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও রাজনৈতিক দল ত্রাণ বিতরণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে বন্যার পানি নেমে গেলেও অনেক এলাকায় এখনো কাদা, আবর্জনা ও ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘরের চিহ্ন রয়ে গেছে। অনেক পরিবার তাদের শেষ সম্বল হারিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সংকট ও পানিবাহিত রোগের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
এদিকে, বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বন্যাকবলিত ভরাখালীসহ জেলার কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন।
এছাড়া, দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বান্দরবান সফরে আসার কথা রয়েছে। তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন