ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সীমান্তের ওপারে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ, উখিয়া-টেকনাফজুড়ে আতঙ্ক

কক্সবাজার ব্যুরো
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫, ০৯:১৯ এএম
মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে আসা ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ । ছবি : সংগৃহীত

মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে আসা ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তজুড়ে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাত ১১টার দিকে ৩ থেকে ৪ মিনিটের ব্যবধানে টানা কয়েক দফা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেলেও এ ধরনের শক্তিশালী ও আকস্মিক বিস্ফোরণ আগে শোনা যায়নি।

শব্দের তীব্রতায় অনেক সীমান্তবাসী ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। হোয়াইক্যং, পালংখালী, রাজাপালং, ঘুমধুমসহ সীমান্তবর্তী অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষ এই বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন বলে জানা গেছে। কোথাও কোথাও মাটি কেঁপে ওঠার মতো অনুভূতির কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পালংখালীর রহমতের বিল এলাকার বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘হঠাৎ বজ্রপাতের মতো বিকট শব্দ হয়। প্রথমে বুঝতেই পারিনি কী ঘটছে। এটা গোলাগুলির শব্দ ছিল না, একেবারেই ভিন্ন ও ভয়ংকর ছিল।’

কুতুপালংয়ের বাসিন্দা হৃদয় চৌধুরী জানান, ‘শব্দে মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। পরিবারের সবাই আতঙ্কে বাইরে বের হয়ে আসি।’

একই বিস্ফোরণের শব্দ রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতেও অনুভূত হয়। রোহিঙ্গা চিত্রগ্রাহক সাহাত জিয়া হিরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী উত্তর মংডু এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে, যার শব্দ বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

রাখাইনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মংডু ডেইলি নিউজ ও আরকান আপডেটের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত মিয়ানমার জান্তা বাহিনীর এসএসএ যুদ্ধবিমান উত্তর মংডুর কিয়াও চাউং ডিভিশন ও গান চাউং ব্যাটালিয়নে অন্তত তিন দফা গোলাবর্ষণ করে। ওই সময় আকাশে একটি ওয়াই-১২ সামরিক বিমান উড়তে দেখার কথাও জানানো হয়েছে।

এ অঞ্চলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে মিয়ানমার জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী সংগঠন আরকান আর্মির মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে আরকান আর্মি রাখাইনের উত্তরের প্রায় ২৭১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত এই সংঘাতের কারণে অন্তত ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে পালিয়ে এসেছে।

এ বিষয়ে বিজিবি উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জসীম উদ্দিন বলেন, রাত ১০টা ৩৮ মিনিট থেকে ১০টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে শূন্যরেখা থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার ভেতরে মিয়ানমারের বলিবাজার এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মিয়ানমার বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান তিন দফায় বোমা নিক্ষেপ করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমান্ত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ১৩ ও ১৭ ডিসেম্বরও সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। একের পর এক এমন ঘটনায় সীমান্তবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তা শঙ্কা ক্রমে বাড়ছে।