× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম

মিয়ানমারে আটক ৭৩ জেলেকে ফেরত দিল আরাকান আর্মি

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির হাতে আটক ৭৩ জন বাংলাদেশি জেলেকে দেশে ফেরত আনা হয়েছে।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর প্রচেষ্টায় তাদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া।

তিনি জানান, টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়া সংলগ্ন ট্রানজিট জেটিঘাট দিয়ে জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ধাপে ধাপে মিয়ানমারে আটক সব বাংলাদেশি জেলেকে ফেরত আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। নাফ নদী ও সাগর থেকে বিভিন্ন সময়ে ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেদের মুক্ত করতে বিজিবি আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ করে তৎপরতা চালাচ্ছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, গত পাঁচ মাসে টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিন উপকূলীয় জলসীমা থেকে অন্তত ৪২০ জন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের বাসিন্দা হুমায়রা বেগম বলেন, “আমার স্বামীকে অপহরণের পর পাঁচ মাস ধরে জানি না তিনি বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন। দুই সন্তান নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে। আজ তিনি ফিরবেন—এই আশায় বসে আছি।”

এদিকে জেলেদের ফেরত আনার খবরে অনেক পরিবার দুপুর থেকে টেকনাফ জেটিঘাটে ভিড় করেছেন। প্রিয়জনদের একনজর দেখতে অনেকে সকাল থেকেই সেখানে অপেক্ষা করছেন।

শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা, মিয়ানমারে আটক নুরুল আলমের ভাই ছৈয়দ আলম বলেন, “আজ জেলেরা ফেরত আসবেন শুনে এখানে এসেছি। খুব খুশি লাগছে, তবে তালিকায় আমার ভাইয়ের নাম আছে কি না জানি না।”

বিগত ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে গমনকৃত বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি জেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করলে তাদের আরাকান আর্মি আটক করে। পরবর্তীতে আটক জেলেদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নিয়ন্ত্রিত ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয় এবং বিভিন্ন মেয়াদে তারা সেখানে আটক অবস্থায় ছিলেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মানবিক বিবেচনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কক্সবাজার অঞ্চলের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের ফলে আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আটক জেলেদের ধাপে ধাপে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়। পর্যায়ক্রমে আটক জেলেদের হস্তান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রথম ধাপে মোট ৭৩ জন বাংলাদেশি জেলেকে নাফ নদীর শূন্য লাইনে আরাকান আর্মির কাছ থেকে গ্রহণ করে টেকনাফ জেটিঘাটে ফেরত আনা হয়েছে। পরিবারের কাছে হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিনিধি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই উদ্যোগের ফলে আটক জেলেদের পরিবার-পরিজনের মধ্যে স্বস্তি ও আশ্বাসের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আসন্ন রমজানের আগে এ প্রত্যাবর্তনকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অবশিষ্ট আটক জেলেদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Link copied!