ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

পেকুয়ায় পাহাড় কাটা থামছে না, যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বসতঘর

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৬:২৮ এএম
পাহাড় কেটে মাটি নিয়ে যাওয়ার কারণে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা বসতঘর। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

কক্সবাজারের পেকুয়ার টইটংয়ে অব্যাহতভাবে পাহাড় কেটে মাটি পাচার করা হচ্ছে। এতে পাহাড়ে বসবাসকারী তিনটি পরিবার চরম মৃত্যুঝুঁকিতে পড়েছেন। পাহাড় ধস ও ভূমিধসের আশঙ্কায় আতঙ্কিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

স্থানীয়রা জানান, টইটং ইউনিয়নের জালিয়ার চাং গর্জনীয়া পাড়ায় গত দুই সপ্তাহ ধরে রাতের বেলা পাহাড় থেকে মাটি সরে যাওয়ার শব্দ শোনা যাচ্ছে। 

অভিযোগ রয়েছে, একটি সিন্ডিকেট স্কেভেটর ব্যবহার করে পাহাড় কেটে মাটি পাচার করছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের ‘ম্যানেজ’-এর কারণে এই অবৈধ কার্যক্রম থামানো হচ্ছে না।

ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলো হলো— আবদুল খালেক, আবদুল মালেক ও মোহাম্মদ সুয়াবের পরিবার। পাহাড় কাটার কারণে তাদের বসতঘরের চারপাশের মাটি দুর্বল হয়ে গেছে। যেকোনো মুহূর্তে ভূমিধসের কারণে ঘরবাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়ার আশঙ্কায় তারা চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।

এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, ওমানপ্রবাসী আমান উল্লাহসহ আবু তাহের, বাচ্ছু, শাহাদাত ও ইসমাইল নামে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিরুদ্ধে পাহাড় নিধনের অভিযোগ থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা আরও বলেন, স্থানীয় কর্মকর্তা মো. এহেসান ‘ম্যানেজ’ হয়ে এই কার্যক্রমকে অনুমোদন দিচ্ছেন।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সুয়াইব বলেন, জালিয়ার চাং-এর এই পাহাড় বহু বছরের পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী। স্থানীয়ভাবে একে ‘আসমানের খুঁটি’ বলা হয়। আল্লাহর সৃষ্টি এই পাহাড় কেটে ফেলার কারণে আমরা এখন চরম ঝুঁকিতে। প্রতিবাদ করলে পাহাড়কাটার পক্ষ থেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

অপর ভুক্তভোগী আবদুল খালেকের স্ত্রী বলেন, পাহাড়টি এমনভাবে কাটা হয়েছে যে যেকোনো মুহূর্তে আমাদের ঘর ধসে পড়তে পারে। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে অনুরোধ করলে উল্টো গালাগাল করা হয়।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান বলেন, আমি টইটং বিট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খোঁজ নেব। যদি এটি রিজার্ভ বনভূমির আওতাভুক্ত হয়, তাহলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।