কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের লিংরোড এলাকায় সাঈদু সিকদার নামের এক ব্যক্তিকে ঘিরে তীব্র আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠদের ছত্রছায়ায় থেকে অবৈধ মাদক ব্যবসা ও অর্থ সম্পদের পাহাড় গড়লেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে বিএনপির ‘ত্যাগী’ নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত দেড় দশকে যখন বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা নানা মামলা-হামলার মুখে ছিলেন, তখন সাঈদু সিকদার ছিলেন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘনিষ্ঠজন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তাদের অবৈধ অর্থ লেনদেনের দায়িত্বে ছিলেন এবং রাজনৈতিক সুরক্ষার কারণে কোনো মামলার মুখোমুখি হননি।
তার শক্তির অন্যতম উৎস হিসেবে উঠে এসেছে টেকনাফে গড়ে ওঠা পারিবারিক নেটওয়ার্ক। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইয়াবা ব্যবসার একটি শক্তিশালী চক্র পরিচালিত হয়। মাদক ব্যবসার অর্থ লেনদেনের আড়াল হিসেবে একটি মোবাইল ব্যাংকিং দোকান ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সাঈদু সিকদারের হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এলাকাবাসী। তারা বলছে, কোনো রাজনৈতিক ত্যাগ ছাড়াই প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে তিনি নতুন পরিচয় ব্যবহার করছেন এবং প্রশাসনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এ ছাড়া, অভিযোগ উঠেছে, তার নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যেখানে জাহেদ, শফিক ও আমিনসহ কয়েকজন যুক্ত রয়েছেন। স্বল্প সময়ে তাদের অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন এলাকাবাসীর সন্দেহ আরও জোরালো করেছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এই চক্রটি প্রভাব ধরে রাখতে সশস্ত্র তৎপরতার দিকেও ঝুঁকছে এবং রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করার পরিকল্পনাও করছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে সাঈদু সিকদারের সাথে যোগাযোগের চেস্টা করা হয়। কিন্তু তাকে না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ অবস্থায় এলাকাবাসীর দাবি, সাঈদু সিকদার ও তার সহযোগীদের সম্পদের উৎস এবং কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অন্যথায় পর্যটন শহরের প্রবেশ দ্বার লিংরোড এলাকায় মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

-20260417181607.webp)
সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন