× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ১১, ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম

বড়ঘোপ ফাজিল মাদ্রাসায় অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড়

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ১১, ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার এক সময়ের আলোকিত বাতিঘর হিসেবে পরিচিত ‘বড়ঘোপ ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা’ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যে ঘেরা এই বিদ্যাপীঠটি বর্তমানে লাগামহীন দুর্নীতি, প্রশাসনিক অরাজকতা এবং চরম অব্যবস্থাপনায় তার দীর্ঘদিনের সুনাম হারাতে বসেছে।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র। ২০১৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১১ বছর মাদ্রাসার আয়-ব্যয়ের কোনো অডিট করা হয়নি। ভর্তি ফি, ফরম পূরণ ও শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন বাবদ সংগৃহীত বিপুল অর্থের কোনো স্বচ্ছ হিসাব নেই। অভিযোগ উঠেছে, ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে নিয়মিত অর্থ উত্তোলন করা হলেও মাদ্রাসার ব্যাংক হিসাব এখন প্রায় শূন্য। এমনকি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।

প্রতিষ্ঠানের এই পতনোন্মুখ অবস্থার জন্য বর্তমান অধ্যক্ষের দায়িত্বে অবহেলাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। চট্টগ্রাম শহরে স্থায়ী নিবাস হওয়ায় তিনি সপ্তাহে মাত্র ৩-৪ দিন মাদ্রাসায় উপস্থিত থাকেন বলে জানা গেছে। মাসের বড় একটি সময় অসুস্থতার অজুহাতে অনুপস্থিত থাকলেও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন তিনি। অধ্যক্ষের এই ‘খণ্ডকালীন দায়িত্ব পালন’-এর সুযোগ নিয়ে অন্যান্য শিক্ষকরাও চরম স্বেচ্ছাচারিতায় লিপ্ত হয়েছেন, যার ফলে ভেঙে পড়েছে প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড।

মাদ্রাসার শিক্ষার মান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে একজন অভিভাবক জানান, আশির ও নব্বইয়ের দশকে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেধার স্বাক্ষর রাখলেও বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। পাবলিক পরীক্ষায় এখন উপজেলার সর্বনিম্ন ফলাফলের তালিকায় নাম উঠে আসছে এই মাদ্রাসাটির।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নুরুল আলম। তিনি দাবি করেন, তিনি নিয়মিত মাদ্রাসায় উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করেন এবং শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকেন। দাপ্তরিক প্রয়োজনে বাইরে গেলেও তা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই করেন। তিনি নিজে বা অন্য কেউ কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন বলেও দাবি করেন।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহান জানান, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ না পেলেও বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন। তদন্তে দুর্নীতির সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

Link copied!