ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

কুবির ৮৩ কোটির বাজেটে সাড়ে ৫০ কোটিই ব্যয় হবে বেতন-পেনশনে

কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ৮৩ কোটি ২৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। তবে অনুমোদিত বাজেটের ৬০ দশমিক ৬৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৫০ কোটি ৫২ লাখ বেশি ব্যয় হবে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে।

সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১০তম সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বাজেট উপস্থাপন করেন।

পরে সিন্ডিকেট সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সর্বসম্মতিক্রমে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৮৩ কোটি ২৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়। একই সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৮৬ কোটি ৪২ লাখ ৭৮ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেটও অনুমোদন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, অনুমোদিত বাজেটের ৬০ দশমিক ৬৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৫০ কোটি ৫২ লাখ টাকা বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে ব্যয় হবে। এছাড়া ৩১ দশমিক ৫৪ শতাংশ বা প্রায় ২৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা পণ্য ও সেবা খাতে, ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ বা প্রায় ৬ কোটি ৬ লাখ টাকা মূলধন অনুদান এবং শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ বা প্রায় ৪৪ লাখ টাকা অন্যান্য অনুদান খাতে ব্যয় করা হবে।

অন্যদিকে, গবেষণা খাতে কোনো স্বতন্ত্র বরাদ্দ রাখা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ খাতের ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কেন্দ্রীয় গবেষণা তহবিল থেকে নীতিমালা অনুযায়ী নির্বাহ করা হবে।

অনুমোদিত বাজেটের মধ্যে ইউজিসি থেকে পাওয়া যাবে ৭১ কোটি ৬২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, প্রারম্ভিক জের ২ কোটি ১ লাখ ৮২ হাজার টাকা এবং ঘাটতি বাজেট ধরা হয়েছে ৯০ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ছিল ১০৬ কোটি ৪ হাজার টাকা।

বাজেট অনুমোদনের পর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ছিল মাত্র ১ কোটি ১০ লাখ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ৮৩ কোটি ২৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদার তুলনায় ইউজিসির বরাদ্দ এখনো অপর্যাপ্ত। ভবিষ্যতে বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়ে ইউজিসির সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও জানান, নতুন অর্থবছরে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও মেধাবৃত্তির বরাদ্দ বৃদ্ধি, বিভিন্ন বিভাগে স্মার্ট বোর্ড স্থাপন, প্রকৌশল অনুষদে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, হলের বাথরুম সংস্কার, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, প্রশাসনিক ভবনে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে জেনারেটর স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সিন্ডিকেট সভাপতি অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম বলেন, সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে বাজেট বাস্তবায়ন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও উন্নয়নের সার্বিক চাহিদা বিবেচনায় ভবিষ্যতে বাজেট বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।