কুমিল্লার দেবীদ্বারে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অষ্টম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে সড়ক থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় বুধবার (৮ জুলাই) ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সবুজ ও ইসমাইল নামে দুই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনাটি গত শনিবার (৪ জুলাই) সকালে দেবীদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামে ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর বিষয়টি গোপন রাখতে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। পরে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগীর বাবা-মা ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরেন এবং থানায় অভিযোগ করেন। মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালানো হলেও অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্তরা হলেন বারেরা গ্রামের রমিজ মিয়ার ছেলে সবুজ মিয়া (২৪) এবং আবুল হোসেনের ছেলে ইসমাইল (২৯)। তারা সম্পর্কে খালাতো ভাই এবং সম্প্রতি প্রবাস থেকে দেশে ফিরেছেন।
বারেরা দাখিল মহিলা মাদরাসার সুপার মাওলানা আমির হোসেন জানান, ভুক্তভোগী ও তার ছোট বোন তাদের মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঘটনার দিন মাদরাসা বন্ধ ছিল। পরে তিনি পরিবারের সদস্যদের আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন।
ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, তিনি ঢাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। মেয়ের কাছ থেকে ঘটনা জানতে পেরে বাড়ি ফিরে মামলা করেছেন। তিনি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সবুজ তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করছিল। রাজি না হওয়ায় ঘটনার দিন কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বারেরা ফুলগাছতলা এলাকায় ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে যৌন নির্যাতন করা হয়। পরে কৌশলে সেখান থেকে বের হয়ে তিনি বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান।
দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

