ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে আবারও বাড়তে শুরু করেছে তিস্তা নদীর পানি। বর্তমানে নদীর পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আশঙ্কা করছে, যেকোনো সময় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। এতে তৃতীয় দফায় বন্যার আতঙ্কে দিন কাটছে তিস্তাপাড়ের মানুষের।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। ১২ ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় তা বেড়ে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। বুধবার সকালে পানি কিছুটা কমে সকাল ৯টায় বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচে নেমে এলেও সন্ধ্যা ৬টায় আবারও বেড়ে ৫২ দশমিক ১৫ মিটার, অর্থাৎ বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। তবে সামনে আরও পানি বাড়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে পাউবো।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কিছুটা কমলেও আগামী তিন দিনের মধ্যে তা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে ওইসব জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। তবে নদীর কোথাও ভাঙন দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পাউবো প্রস্তুত রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বালির বস্তা ও জিওব্যাগ মজুত রাখা হয়েছে।

