গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী এলাকার কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড পোশাক কারখানায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন শ্রমিকরা। বুধবার (৮ জুলাই) সকালে ৬০ থেকে ৬৫ জন শ্রমিক অসুস্থ হন। আগের দিন একই কারখানায় ৭৭ জন শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার পর দুই দিনে মোট প্রায় ১৪০ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।
জানা গেছে, বুধবার সকালে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর কয়েকজন নারী শ্রমিক হঠাৎ মাথা ঘোরা, বুকে ব্যথা, পেটব্যথা ও বমি বমি ভাব অনুভব করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই একই ধরনের উপসর্গ আরও অনেক শ্রমিকের মধ্যে দেখা দিলে উৎপাদন ফ্লোরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ অসুস্থ শ্রমিকদের মাওনা চৌরাস্তার আল-হেরা হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে পাঠায়।
অসুস্থ কয়েকজন শ্রমিক জানান, গত মাসে সহকর্মী লিজা আক্তারের মৃত্যুর পর থেকেই অনেকের মধ্যে মানসিক চাপ কাজ করছে। তবে তাঁদের মতে, শুধু আতঙ্ক দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। একই ফ্লোরে বারবার এমন ঘটনা ঘটার কারণ বৈজ্ঞানিক ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
মাওনা চৌরাস্তার আল-হেরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আবুল হোসেন বলেন, বুধবার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন শ্রমিক চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছিলেন। তাঁদের অধিকাংশই নারী। রোগীদের মধ্যে বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা, পেটব্যথা ও বমি বমি ভাবের উপসর্গ ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সবাইকে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি পাঠানো হয়েছে। কাউকে অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হয়নি।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি ‘ম্যাস সাইকোজেনিক ইলনেস’ (ম্যাস হিস্টেরিয়া) হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ এবং তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তিনি আরও জানান, সিভিল সার্জনের নির্দেশনায় এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন দিবাগত রাতে একই কারখানার সুইং অপারেটর লিজা আক্তার (৩৬) কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মারা যান। সহকর্মীদের অভিযোগ ছিল, অসুস্থ হওয়ার পরও তাঁকে সময়মতো ছুটি দেওয়া হয়নি। ওই ঘটনার জেরে শ্রমিকরা বিক্ষোভও করেছিলেন। এরপর একই কারখানায় টানা দুই দিনের শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় কর্মপরিবেশ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

