ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নির্বাচনি সহিংসতায় বাড়িঘরে হামলা ও আগুন, আহত ৩০

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

নির্বাচন-পরবর্তী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও ময়েনদিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের সালথা ও বোয়ালমারী উপজেলার কয়েকটি গ্রামে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্তত ১৫টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং দুটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া ও বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বর্দী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া এলাকায় সংঘর্ষ চলে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সালথার খারদিয়া গ্রামের আবুল কামাল আজাদ ওরফে বাচ্চুর ছেলে মো. জিহাদ মিয়া ও টুলু মিয়ার সঙ্গে বোয়ালমারীর পরমেশ্বর্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নানের বিরোধ প্রায় এক দশক ধরে চলে আসছে।

নির্বাচনকেন্দ্রিক উত্তেজনার জেরে শনিবার উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এতে অংশ নেন।

সালথা আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার জানান, উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযানে কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার ও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র এবং আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংঘর্ষের পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। প্রশাসন পুণরায় সংঘর্ষ এড়াতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করার উদ্যোগ নিয়েছে।